করোনা: মুজিব বর্ষে আমরা করবো জয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘WHO’ “নোভেল করোনাভাইরাস” কে মহামারি হিসেবে ঘোষণা!

ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। চীনের পর একে একে ইতালি, স্পেন, ইরান, জার্মানি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলিকে ক্ষতবিক্ষত করে ‘করোনা’ এবার থাবা বসাতে শুরু করেছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে।

করোনার তাণ্ডবলীলায় উন্নত দেশগুলির বেসামাল অবস্থা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। “করোনা”কে সামাল দিতে সম্পদশালী ও চিকিৎসা পরিকাঠামোর শীর্ষে থাকা দেশগুলিরই ল্যাজেগোবরে অবস্থা। তা দেখে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রগুলি প্রবল চাপের মুখে।

বাংলাদেশে এই সঙ্কট আরও গভীর। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ একটি গরিব দেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যাকে করোনার বিষাক্ত ছোবল থেকে রক্ষা করা অনেক বড় এবং কঠিনতম চ্যালেঞ্জ। প্রতিষেধকহীন এই মারাত্মক ভাইরাস মোকাবিলার একটাই অস্ত্র, আত্মরক্ষা। আলাদা থাকা, একা থাকা, ঘরে থাকা।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বে এগিয়ে থাকা এবং অত্যন্ত কম জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইতালি, স্পেন, আমেরিকা, জাপান, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি এবং ইংল্যান্ড “করোনাভাইরাস” মোকাবিলায় নাকানিচোবানি খাচ্ছে। তার অন্যতম প্রধান কারণ “করোনা”কে ছোট করে দেখা এবং অবশ্যই তাদের জীবনযাত্রা। হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ওই সমস্ত দেশ এই মুহূর্তে ‘করোনা’ আক্রমণের স্টেজ থ্রি ও ফোর দশায় অবস্থান করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুললে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলিকে এই খেসারত হয়তো দিতে হতো না। আমাদের বাংলাদেশে এই আক্রমণ কিছুটা পরে শুরু হওয়ায় আমাদের সামনে এখনও একটা সুযোগ রয়েছে। প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে করোনা স্টেজ ‘থ্রি’ পর্বে রয়েছে। এখনও পুরোপুরি ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ শুরু হয়নি বলেই অনুমান। এখনও পর্যন্ত যাঁরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় আইসোলেশনে রয়েছেন তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেরই সুনির্দিষ্ট ইতিহাস রয়েছে।

অর্থাৎ তাঁরা হয় বিদেশে আক্রান্ত হয়ে এদেশে এসেছেন অথবা আক্রান্তদের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে এসেছেন। কিন্তু, তৃতীয় স্টেজটাই অতি ভয়ঙ্কর! মানুষ নিজের অজান্তেই এই ভাইরাসের শিকার হবেন এবং অন্যকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেবেন। তাই সতর্ক না হলে দেশজুড়ে নেমে আসবে ভয়াবহ বিপর্যয়।
করোনাভাইরাসের সঠিক মোকাবিলা করতে হলে আপাতত ‘গৃহবন্দি’ হয়ে থাকা আবশ্যক। যাদের বাইরে যাওয়া অনিবার্য তাদেরও সতর্ক হওয়া দরকার। অন্তত মুখে মাস্ক পরা, প্রতি দুজন মানুষের মধ্যে চার থেকে ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রাখা দরকার।

সারাবিশ্বই বর্তমানে স্তব্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলকারখানা, অফিস বন্ধ। অনেক অফিস অনলাইনে চলছে। অনেক অফিস যেটুকু কাজ না করলে নয়, তা-ই করছে। ইউরোপ-আমেরিকার বড় বড় শহরগুলো গত দুই সপ্তাহ ধরে স্তব্ধ, শূন্য প্রান্তরের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রাণের স্পন্দন নেই, যান নেই, জন নেই!


এ রকম কত দিন চলবে? কেউ জানেন না? আশাবাদীরা বলছেন তিন-চার মাস সময় লাগবে। আবার এমন ভীতিপ্রদ হিসেবও পড়েছি, যা বলছে অন্তত দেড় বছর। এমন সঙ্কট আমরা অতীতে দেখিনি! পরিচিত অনেকের মনেই এক সাধারণ উৎকণ্ঠা! এই সঙ্কট যত গভীর হবে, সমাজের চেহারাটা ততই কি বদলাবে? কী ভাবে? বেশির ভাগ মানুষের জীবন অনিশ্চয়তার ঘুরপাকে ফেলে দিয়ে তো আর কোনও সমাজ স্থিতিশীল থাকতে পারে না। প্রচুর মানুষের এখন আয় নেই বা ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। যারা দিনে এনে দিন খান, তারা কীভাবে বেঁচে থাকবে? এই মানুষেরা যদি কেড়ে খেতে শুরু করে কখন কী হবে?


ধনতান্ত্রিক সমাজে সাধারণত অসুখ-বিসুখ বাজারি ব্যবস্থার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয়। স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা মানে শুধু রোগমুক্তি নয়, স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীদের মোটা অঙ্কের মুনাফাও বটে। কিন্তু করোনাভাইরাস ধনতান্ত্রিক দেশগুলোকেও সে সুযোগ দেয়নি। এই মহামারিতে বরং ধনতান্ত্রিক সমাজই যেন উরুতে ঘা খেয়ে পা ভেঙে বসে পড়েছে! আমাদের কী হবে, সেটা ভাবলে শরীর হিম হয়ে যায়! আপাতত ঘরে থাকা এবং সব ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে বিচ্ছিন্ন থাকার নীতি অবলম্বন করে সব দেশ পরিত্রাণ খুঁজছে। আমাদেরও এই নীতি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।


বর্তমান পরিস্থিতে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করা, একই সঙ্গে আরও কঠিন সময়ের জন্য মানসিকভাবে তৈরি করার ঘোষণাও কিছুটা স্বস্তির আভাস দিয়েছেন। একথা ঠিক যে প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে কোনো সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই যে যথেষ্ট নয়। সরকারের সীমাবদ্ধতার কথাও জানাতে হবে। গত ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছেন, তা কিন্তু আশ্বস্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়! বিত্তশালী আমেরিকা বা ইউরোপই যেখানে সংক্রমণ সামাল দিতে নাজেহাল, সেখানে বাংলাদেশের ক্ষমতা আর কতটুকু? কিন্তু সদিচ্ছাটুকু অন্তত জানানো হয়েছে সামান্য ও সীমিত সামর্থ্য নিয়েই লড়ে যেতে তিনি তৈরি।

তিনি সরকারি-বেসরকারি সকল স্বাস্থ্য প্রদানকারী সংস্থাকে এক জায়গায় ‘মানবিক’ দৃষ্টিতে সেবা প্রদানের আবেদন জানিয়েছেন।সরকারি–বেসরকারি সম্মিলিত উদ্যোগ কীভাবে জনহিতে কাজে লাগানো যেতে পারে-সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যাইহোক, সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সরকারকে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য প্রভাব ও ফলাফল নিয়ে এখনই গভীরভাবে ভাবতে আরও হবে। করোনাভাইরাস-জাত আর্থিক সমস্যা কে সরকার অর্থনীতির গভীর স্বাস্থ্যভঙ্গের বিপদটিকে যেন আড়াল করতে না চায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কী কর্তব্য, সেটা যদি সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা না জানেন, তবে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিতে হবে। কিন্তু, কিছুই হয়নি, আমরাই সব সামলাতে পারবো, এমন মিথ্যা অহঙ্কারের হাতে দেশকে ছেড়ে দিলে মহাবিপর্যয় গ্রাস করবে।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এত দেরি কেন? প্রতিরোধক ব্যবস্থাই বা এত ঢিলেঢালা কেন? আবার দেশের জনসংখ্যা এবং সংক্রমণের অনুপাত হিসাব করে অনেকেই বলছেন, আমাদের জন্য দুঃচিন্তার এত কারণ নেই। ক্ষোভ, অভিযোগ, তর্ক— অতি উৎকৃষ্ট বস্তু। কিন্তু এখন এসব চর্চার ক্ষোভ, অভিযোগ, তর্ক— অতি উৎকৃষ্ট বস্তু। কিন্তু এখন এসব চর্চার সময় নয়। বিপদ কাটলে তর্ক করবার, অনুপাত কষবার বিস্তর অবকাশ মিলবে। যাতে বাধ্য হয়ে জনজীবন অঁচল করতে না হয়, সেই কারণেই জনসমাগম ও সামাজিক মেলামেশা যথাসম্ভব কমানো জরুরি।

এখনও পর্যন্ত যে পরিস্থিতি রয়েছে, সেটাকে ধরে রাখার জন্য চাই আরও সতর্কতা ও নিরলস প্রচেষ্টা। বিশ্বের বিখ্যাত সাহিত্যিক অ্যালবেয়ার ক্যামু, জ্যাক লন্ডন, মার্কেজ প্রমুখের লেখায় মহামারীর বিরুদ্ধে মানুষের লড়াইয়ের ছবি আঁকা হয়েছে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছেন, ‘মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি/ বাঁচিয়া গিয়েছি বিধির আশীষে অমৃতের টিকা পরি।’ মানুষের কপালে আছে অমৃতের টিকা। তার ‘নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়।’ এই জয়ের মুকুট ছিনিয়ে আনতে সরকার ও দেশের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে! “হাঁচি-কাশি, জ্বর মাথা ব্যাথা মানেই করোনা নয়!

হতাশ ও আতঙ্কিত হবেন না” অন্য অনেক কারণেও এমন হতে পারে। তবে হঠাৎ এমন উপসর্গ দেখা দিলে বিলম্ব না করে আপনি ও আপনার বন্ধুকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আপনার আশেপাশে জেলা ও উপজেলা সদরে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে, কোথায়ও না থাকলে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল কিংবা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অতি দ্রুত চিকিৎসার জন্য যোগাযোগ করুন! এই হাসপাতালগুলোতে করোনার চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

“করোনাভাইরাস” অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় ভারী বিধায় বেশীক্ষন বাতাসে ভাসতে পারে না! তাই এটি মাটি, মেঝে/ফ্লোরেও পড়ে অবস্থান করে। তাই মেঝে সব সময় পরিষ্কার রাখবেন। হাত-পা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। যারা করোনাভাইরাস এ আক্রান্ত শুধুমাত্র তারাই হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু /রুমাল ও মাক্স ব্যবহার করুন! রুমাল ব্যবহারের পর সেটা আবার ধুয়ে নিন। নিজে যথাযথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন এবং পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন করুন। সতর্কতা হিসেবে লবন, আদা, গরম পানি সহযোগে দিনে কয়েকবার গড়গড়া করুন! এবং প্যারাসিটামল ও এন্টিহিস্টামিন ব্যবহার করুন! নিজে পরিষ্কার থাকুন, অন্যকে পরিষ্কার থাকতে বলুন! দিনে কয়েকবার কাপড় কাচার সাবান দিয়ে কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড ভাল করে হাত ধুয়ে নিন! স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহন ও ভিটামিন এ, সি ও ডি জাতীয় খাবার একটু বাড়িয়ে খাই।

বেশী বেশী নিরাপদ পানি পান করি। নিজের বাসায় অবস্থান ও বাসার তৈরী খাবার খাই, সুস্থ জীবন গড়ি। মোটকথা, সব কিছুই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা! তাই সর্বোপরি সৃষ্টিকর্তার শরণাপন্ন হোন, তাঁর প্রতি ভরসা রাখুন, ধর্মীয় শাসন মেনে চলুন এবং নিজেরা সচেতন থাকুন! সকল প্রকার ভ্রমণ থেকে সাময়িক বিরত থাকতে আপনার ইচ্ছাই যথেষ্ট! আর নয় করোনাভাইরাস এ আতঙ্কিত! আমরা বাংলাদেশী! জয় আমাদের হবেই ইনশাল্লাহ! বিশ্বতথ্য মতে, কোভিড করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় কী কী আছে? করোনা গ্রুপের কোভিড–১৯ ভাইরাসের চরিত্র সম্পর্কে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখনও অনেক তথ্য জেনে উঠতে পারেননি। সাধারণ জ্বর-সর্দিই এই অসুখের প্রাথমিক উপসর্গ।

বিজ্ঞানীরা তবে এখনও বুঝে ওঠা যাচ্ছে না কিছু দিনের মধ্যে এই ভাইরাসের প্রকোপ কমে যাবে নাকি আরও মারাত্মক ভাবে ছড়িয়ে পড়বে! দেখা গিয়েছে সাধারণ ভাইরাল ফিভার ও সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দিয়ে রোগের সূত্রপাত হলেও বয়স্ক মানুষ এবং যাঁদের হার্ট ও লাং-সহ অন্যান্য কোনও অসুখ আছে তাদের ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। কয়েকটি ব্যাপারে সচেতন হয়ে সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে এই অসুখের হাত এড়ানো যায়! সুস্থ থাকতে গেলে কী কী করব?

• সঠিক ডায়েট, নিয়মিত এক্সারসাইজ করে ওজন স্বভাবিক রাখা ও নিশ্ছিদ্র নিদ্রা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। এ ছাড়া ধূমপান, মদ্যপানের মতো বদভ্যাস থাকলে তা ছেড়ে দিতে হবে। মন ভাল রাখতে নিয়ম করে মেডিটেশন করতে পারলে ভাল হয়।

• নিয়ম করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। খাবার আগে তো বটেই, নাকে-মুখে-চোখে হাত দেওয়ার আগে অবশ্যই ভাল করে সাবান দিয়ে রগড়ে হাত ধুতে হবে, অসুবিধে থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ভাল করে হাত ধোয়া দরকার।

• ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া-সহ যাবতীয় টিকা নিয়ে রাখা উচিত, বিশেষ করে যাঁদের কোনও ক্রনিক কোনও অসুখ, যেমন ডায়বিটিস, হার্টের অসুখ, সিওপিডি ও নানা ফুসফুসের অসুখ আছে তাঁদের তো বটেই, সিনিয়র সিটিজেনদের বাধ্যতামূলক ভাবে ভ্যাকসিন নেওয়া দরকার।

• হাত না ধুয়ে চোখ, নাক, মুখে হাত দেবেন না।

• কোভিড–১৯ ভাইরাস ঠিক কী ভাবে ছড়িয়ে পড়ে সেই বিষয়ে এখনও চিকিৎসকরা নিশ্চিত নন। তবে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর ব্যাপারে কিন্তু নিশ্চিত। হাঁচি-কাশির পাশাপাশি সর্দি বা লালার মারফত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। তাই মুখে, চোখে ও নাকে হাত দেওয়ার আগে অবশ্যই হাত ধুয়ে নিতে হবে। তাই খাবার খাওয়ার আগে তো বটেই, নাক ঝাড়া, হাঁচি ও কাশির পর পরই সাবান বা হ্যান্ড স্যনিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া দরকার।

• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ও সরকারি স্বাস্থ্য দফতর তাঁদের ওয়েবসাইটে কোভিড–১৯ সম্পর্কে যে সব তথ্য জানাচ্ছেন সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা দরকার।

• কাজের প্রয়োজনে বা অন্য কারণে বাইরে যেতে গেলে যে সব নিয়ম মেনে চলা দরকার তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

• নিজে বা নিকট জন অসুস্থ হয়ে পড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন। যদি জ্বর, সর্দি কাশি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ও গা-হাত-পা ব্যথার মত উপসর্গ হয় তবে অবিলম্বে সাবধান হন। বিশেষ করে যদি বিদেশ থেকে আসেন বা বিদেশ থেকে এসেছেন এমন কারও সংস্পর্শে আসেন তবে অবশ্যই ডাক্তারকে সে কথা জানান। কোভিড-১৯ পরীক্ষার পাশাপাশি অন্যদের মধ্যে যাতে অসুখ ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক হতে হবে সবাইকে। সাধারণ ভাইরাল ফিভার হলে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও সঠিক পথ্য নিন, দরকার হলে ওষুধ খান।

• অযথা আতঙ্কিত হবেন না, আর গুজব ছড়াবেন না। তবে সাবধানের মার নেই। সাবধানে থেকে কোভিড–১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে হবেই।

• হাত ধোওয়ার নিয়মাবিধি মেনে চলুন। হাতে জল ঠেকানো মানেই কিন্তু হাত ধোওয়া নয়, এটা মনে রাখতে হবে। আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো- করোনা ভাইরাস প্রতি প্রতিরোধে নিজের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা যা করবেন :

১. ধূমপান বাদ দিন। ২. অ্যালকোহল পান করবেন না। ৩. প্রতিদিন গোসল করুন। সম্ভব হলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান কিংবা বডিওয়াস (ডেটল, কাপড় কাঁচার সাবান, লাইফবয়) ব্যবহার করুন। ৪. ঠাণ্ডা-জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকুন যেমন : আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিঙ্কস, জুস। ৫. ভিটামিন সি যুক্ত খাবার/ফল খান। যেমন : অরেঞ্জ জুস, লেবু। ৬. সূর্যের আলো ত্বকে নিন। (ভিটামিন ডি) ৭. ঘনঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। ৮. ভালভাবে সেদ্ধ করা খাবার খান। যেমন : ডিম, মুরগির মাংস। ৯. অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ১০. আদা চা, তুলশী চা, মধু ইত্যাদি পান করুন। ১১. ইয়োগা বা ব্যায়াম করুন। তথ্য মতে, করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম।

এটা সবাইকে আক্রমণ করতে পারলেও সবার মৃত্যু ঘটাতে পারবে না। আপনার শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা আপনাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারে। তাই আক্রান্ত হওয়ার আগেই সতর্ক হোন। জনসমাগম এড়িয়ে চলুন! বাসায় থাকুন, সুস্থ থাকুন! সাময়িক সামাজিক দুরত্ব দায়িত্বের সাথে ও প্রয়োজনে পরিহার করুন!” “ধন সম্পদের অহংকার থেকে সৃষ্টিকর্তা/ আল্লাহ/ঈশ্বর যে নামেই জানি তাঁর কাছে পানাহ চাই! তিঁনিই সকল কিছুর মালিক! করোনাভাইরাস এমন একরোগ, যা মানুষকে ধ্বংসের শেষ পর্যায়ে পৌছিয়ে দিতে পারে। নিজে বাঁচুন,পরিবার ও সমাজ ও দেশের মানুষকে বাঁচান।

লেখক: মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা, নোঙর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

https://nongornews.com/2020/04/15/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%ac-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%b0/?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *