আত্রাই নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে দায়ী করলেন – মমতা

বুধবার, ১০ জুলাই ২০১৯, (নোঙরনিউজ) : আত্রাই নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে দায়ী করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিধানসভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। তার দাবি, এক যুগ ফারাক্কায় ড্রেজিং না হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে।

মমতা বলেন, আত্রাই নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ। সে কারণে এপার বাংলায় শুকিয়ে যাচ্ছে নদীটি। পানিশূন্য হয়ে পড়েছে রাজ্যের দিনাজপুর জেলা। কেন্দ্রের কাছে ডিভিসি ও ফারাক্কা বাঁধ সংস্কারের দাবিও জানিয়েছেন মমতা। তার অভিযোগ, এ বিষয়ে কেন্দ্রকে বারবার জানালেও কোনো কাজ হয়নি। দুই দেশের সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

যদিও তিস্তার পানির ওপর বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার বারবার অস্বীকার করেছেন তিনি। তিস্তা থেকে পানি দেয়ার পরিস্থিতি নেই বলে দাবি করে আসছেন মমতা।

খাল-নদীর পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী সব স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রবিবার, ০৭ জুলাই ২০১৯ (নোঙরনিউজ) : নদী ও খাল-বিল ও সাগরের জোয়ারভাটার পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী সব ধরনের স্থাপনা অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সব জেলা প্রশাসককে জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা পাঠাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলমকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে জোয়ার ভাটার পানিও যেন বাধাহীনভাবে ওঠানামা করতে পারে সে বিষয়টি বাস্তবায়নেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

গত বছর সোমবার, ২৮ আগস্ট ২০১৮) তেঁজগাওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এবারের বন্যা ও বন্যা পরবর্তী পরিস্থতি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের কাছে বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তিনি।

পরিস্থিতি অবগত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, অনেক স্থানে খাল বিল দখল করে মাছের ঘের করা হয়েছে। অনেক জায়গায় ব্রিজের নিচে ইট বালু সিমেন্ট দিয়ে দেয়াল তৈরি করে পানি আটকে রেখে মাছ চাষ করা হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় খাল-নদী দখল করে নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জোয়ার ভাটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক স্থানে তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা। এ সব কারণে এবারের বন্যায় জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে।

জানা গেছে, এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ সব যারা করেছেন তারা যতোই ক্ষমতাশালী হোক তা আমলে না নিয়ে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন সব অবকাঠামো, দেয়াল বা জঞ্জাল ভেঙে ফেলতে হবে। এ বিষয়ে সব জেলা প্রশাসককে কার্যকর উদ্যোগ নিতে তিনি লিখিতভাবে নির্দেশ দিতে বলেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে। অবিলম্বে জেলা প্রশাসকদের এই নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি পাঠানোরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, ১০ জুলাই, ২০১৯ (নোঙরনিউজ) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিস্তৃতি এবং এর প্রভাব প্রশমন নিজেদের সক্রিয় উদ্যোগ সম্পর্কে আরো সচেতন হতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সচেতন থাকতে এবং নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করছি।’
তিনি আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় দু’দিনব্যাপী জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’র (জিসিএ) ঢাকা বৈঠকে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন ও অর্থায়নের যুগে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে যা সকলে সহজে কাজে লাগাতে পারি।’ ‘তথাপি আমি বলতে চাই, অভিযোজনের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেজন্য সুষ্ঠু প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অভিযোজন প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে না,’ যোগ করেন তিনি।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা সি. হেইন, গ্লোবাল কমিশন অন এডাপটেশন’র চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন এবং সম্মেলনের কো-চেয়ার এবং বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. ক্রিস্টালিনা জর্জিওভা সম্মেলনে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সামনের সারিতে থেকে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ ও কৌশল সম্পর্কে বান-কি-মুন বলেন, ‘অবশ্যই আমরা এখানে বাংলাদেশের কাছে শিখতে এসেছি। অভিযোজনের বিষয়ে শেখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশই হচ্ছে সবচেয়ে ভাল শিক্ষক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাবউদ্দিনও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্লোবাল কমিশন অব এডাপটেশন’র সহযোগিতায় আমরা জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সঠিক অভিযোজন কৌশলের পাশাপাশি সাশ্রয়ী পন্থা ও ঝুঁকি নিরসন ব্যবস্থার সুবিধা পেতে চাই।

তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানে অনুষ্ঠিতব্য ক্লাইমেট চেঞ্জ সামিটের প্রতিবেদনের সুপারিশগুলোর জন্য। ওই সম্মেলনে এলডিসিভুক্ত দেশসমূহ ও বাংলাদেশর পক্ষ থেকে আমাকে বক্তব্য দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’

বাংলাদেশে একটি ‘রিজিওনাল অ্যাডাপটেশন সেন্টার’ স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযোজন প্রক্রিয়ায় অগ্রগামী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে একটি আঞ্চলিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের দাবী রাখে। আমি বাংলাদেশে একটি আঞ্চলিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয় বিবেচনা করতে আপনাদের অনুরোধ জানাচ্ছি।’
তিনি এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়ায় বান-কি মুনকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন ঢাকা সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে বলেন,‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব অনুমিত সময়ের আগেই আমাদের প্রত্যেকের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সেজন্য, এর প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বকে বিনিয়োগে আরও বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেন,‘আমি শুধু নিজের দেশ নিয়ে ভাবি না। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে অনেক ছোট ছোট দ্বীপপুঞ্জ হারিয়ে যাবে। তখন সেখানকার মানুষেরা কোথায় যাবে, সে কথাও আমাদের ভাবতে হবে।’

শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে বলেন, তাদেরকে আমরা মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু তাদের কারণে আমাদের ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ওখানে আমাদের যত পাহাড়ি এলাকা বা জঙ্গল ছিল সেগুলো কেটে-ছেঁটে বসতি স্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে এলাকাটি অনেকটা অনিরাপদ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।’
‘এজন্য আমরা চাই দ্রুততম সময়ে তারা নিজ দেশে ফেরত যাক। তারা যত তাড়াতাড়ি নিজেদের দেশে ফিরে যাবে, ততই তা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে প্রাক-শিল্প স্তরের চেয়ে প্রায় এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উপরে পৌঁছেছে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল মানব ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর ছিল। ’
তিনি বলেন,‘জার্মান ওয়াচ’র ক্লাইমেট চেঞ্জ ভার্নাবিলিটি ইনডেক্স- ২০১৮ অনুসারে, ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৬ সময়ে বাংলাদেশ বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে ছিল ৬ষ্ঠতম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এডিবি’র জলবায়ু এবং অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিবেদনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আমাদের বার্ষিক জিডিপি ২ শতাংশ কমে যাবে। যদি বর্তমান হারে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে তাহলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে আমাদের ১৯টি উপকূলীয় জেলা স্থায়ীভাবে ডুবে যাবে।’

নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমুদ্রতল বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের বিস্তৃত এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বলছে, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৬০ লাখ জলবায়ু অভিবাসী রয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এটি বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।’

তিনি বলেন, তাঁর সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রমে গত এক দশকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে যে বিশাল উন্নতি হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাবে আজ তা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
জনগণের জন্য অভিযোজন ব্যবস্থা তৈরি করতে তাঁর সরকারের নিরলসভাবে কাজ করার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত এক দশকে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসমূহ অভিযোজনের মাধ্যমে নিরসনের জন্য বছরে প্রায় একশো কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করছি।’

এ সময় তিনি জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন এবং বাংলাদেশের নিজস্ব তহবিল থেকে জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচির জন্য ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি এই ফান্ডে বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় নেদারল্যান্ডের সহযোগিতায় প্রণীত শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনার উল্লেখ করে বলেন,‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলার জন্য আমরা বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ নামে একটি দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’
তিনি প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থপূর্ণ সহযোগিতার জন্য ২০১৫ সালে প্যারিসে বিশ্ব সম্প্রদায় একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরিতে সফল হয়েছে।

তিনি বলেন,‘অনেকের মত আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিকভাবে আমাদের এটি সমাধান করতে হবে। প্যারিস চুক্তি হচ্ছে এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর বৈশ্বিক চুক্তি।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বান কি মুন’র উদ্যোগে গঠিত পানি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরাম’র (এইচ.এল.পি.ডাব্লিউ) চূড়ান্ত রিপোর্টে আমরা সংযোজন করেছি -‘এভরি ড্রপ কাউন্টস’ অর্থাৎ ‘প্রতি ফোটা মূল্যবান।’ যেটি বিশ্ব সম্প্রদায় বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দেশের বিভিন্ন সময়ের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন এবং দুর্যোগে ক্ষয়-ক্ষতি লাঘবে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

সরকার প্রধান বলেন,‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলায় আমরা নিজস্ব কৌশল অবলম্বন করেছি। লবনাক্ততা, বন্যা ও ক্ষরা সহিষ্ণু ফসলের প্রজাতি উদ্ভাবন এবং চাষের মাধ্যমে এ বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা গড়ে তুলেছি।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান আজকে সকলের সামনে উপস্থাপনের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ৭ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষ মারা যায়। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে মারা যায় ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ। ২০০৯ সালের মে মাসে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাইক্লোন আইলার প্রভাবে ১১৯ জনের মত মানুষ মারা যায়। আর ২০১৯-এর মে মাসে বয়ে যাওয়া সাইক্লোন ফণীতে কেউ মারা না গেলেও সে সময় অন্যান্য কারণে ১০ জন প্রাণ হারায়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপকূলীয় অঞ্চলে ১৭২টি মুজিব কেল্লা (সাইক্লোন সেল্টার) নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় পথ রচনা করেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘জাতির পিতা ১৯৭২ সালে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি) গ্রহণ করেন। সিপিপি’র বর্তমানে ৪৯ হাজার ৩শ’ ৬৫ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে।’
জাতির পিতা সে সময় ৪৫ হাজার স্বে”চ্ছাসেবকের এক বাহিনী গড়ে তুলতে সক্ষম হন বলেও তিনি জানান।

তাঁর সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশে কমে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ৩৭৮টি মুজিব কেল্লা নির্মাণ করছে। এছাড়া, দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ৩ হাজার ৮৬৮টি বহুমুখী সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ১ হাজার ৬৫০টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হবে।’

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের আষাঢ় মাসে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আগামী ৫ বছরে দেশের ২২ থেকে ২৪ ভাগ অঞ্চল গাছপালায় আচ্ছাদিত হবে।’

ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ২ লাখ হেক্টর উপকূলীয়-বনায়ন সৃষ্টি করে সবুজ বেষ্টনীর মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূল অঞ্চলকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে ৬ লাখ ১ হাজার ৭শ’ হেক্টর এলাকার সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বনের ব্যবস্থাপনা করছে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারর বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে এক্ষেত্রে ব্যাপক গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

নদী বাঁচান-দেশ বাঁচান-মানুষ বাঁচান : নোঙর

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৯,(নোঙরনিউজ) : “নদী বাঁচান-দেশ বাঁচান-মানুষ বাঁচান” এই দাবিতে আজ ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাব সড়কে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর এই মানববন্ধের আয়োজন করে।

নোঙর সভাপতি সুমন শামস এক লিখিত প্রতিবেদনে বলেন, আমরা সারা দেশের নদীপ্রমিকরা নদীর কথা বলছি আজ থেকে অনেক দিন আগে থেকে। কারণ নদীমাতৃক দেশের নদীরা ভালো নেই আজ। বিপর্যয় নেমে এসেছে আমাদের বেশির ভাগ নদ-নদীতে। আমাদের অনুসন্ধান বলছে যে, তেরো শত নদীর দেশে এখন জীবিত আছে মাত্র ২৩০টি নদী। উজান দেশের উদাসীনতায় ভাটির দেশের পানি কমে যাওয়ায় আজ আমাদের নদীগুলোর এমন অবস্থা হয়েছে। দেশের ৪০টি নদীতে কমে গেছে পানি, ভয়াবহ পানি সঙ্কটের দিকে এগিয়ে চলছে নদীমাতৃক বাংলাদেশ!

দূযোর্গের মধ্যে এক শ্রেণির লোভি মানুষ পানি শূন্য নদীতে চলাচ্ছে দখলের উতসব। একই সাথে রাজধানীর বিভিন্ন নদী তীরবর্তী এলাকার কল-কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য এবং দূষিত আবর্জনা ফেলার কাজ চলাচ্ছে এখনো। নদীতে দূষিত আর্বজনার কারণে দূষণের মাত্রা এতোই বেড়েছে যে, আদি বুড়িগঙ্গা, নড়াই নদী, বালুনদী, শীতলক্ষা নদীসহ তুরাগ নদীর বিভিন্ন এলাকায় নদীর জলে আগুন জ্বলে! আর এই নদীগুলোর দুই পাড়ের সকল বাসিন্দাদের রোগ ব্যধির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর হিসাব অনুযায়ি বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা এখন ৪০৫টি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ১০২টি, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ১১৫টি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী ৮৭টি, উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী ৬১টি, পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের নদী ১৬টি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী ২৪টি হিসেবে আলাদা করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সুমন শামস আরো বলেন, পদ্মা নদীর শাখা প্রধান শাখা নদী গড়াই, আত্রাই, বড়াল নদী এখন পানির জন্য হাহাকার করছে। এই নদীর সাথে অন্যান্য শাখা নদী গুলোতেও পানির টান পড়তে শুরু করেছে। নদী নির্ভর সেচ কাজ ব্যাহত হয়ে পড়েছে। মাছ শুণ্য হয়ে গেছে বেশীর ভাগ নদ-নদী। এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশে এক ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়বেই।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে অসংখ্য নদনদীর মধ্যে অনেকগুলোই আকার এবং গুরুত্বে বিশাল। এসব নদীকে বড় নদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।বৃহৎ নদী হিসেবে কয়েকটিকে উল্লেখ করা যায় এমন নদীসমূহ হচ্ছে: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলি, শীতলক্ষ্যা, গোমতী ইত্যাদি।

বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী সুরমা। ৩৯৯ কিলোমিটার লম্বা। সবথেকে চওড়া যমুনা। দীর্ঘতম নদ ব্রহ্মপুত্র। বাংলাদেশের সব নদীর উৎপত্তি ভারত কিংবা তিব্বতে। একমাত্র সাংগু নদীর শুরু ও শেষ বাংলাদেশে। দেশের অর্থনীতিতে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। নদীর বয়ে আসা পলিমাটিতেই বাংলাদেশের কৃষিজমি অত্যন্ত উর্বর। কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে নদীই ভরসা। পরিবহণের তিন-চতুর্থাংশ নদীপথে। জলপথ ৫ হাজার ৬৩২ কিলোমিটার। বর্ষায় বেড়ে হয় ৮ হাজার ৪৫ কিলোমিটার। সেচ আর বিদ্যুতের জন্যও নদীর দরকার। নদীর মাছ শুধু দেশের অর্থনীতির স্তম্ভ নয়, বৈদেশিক মুদ্রাও এনে দেয়।

শতসহস্র নদীর এই দেশে নদীগুলো কেমন আছে? এমন প্রশ্ন করা হলে, এক কথায় উত্তর পাওয়া যাবে- ভালো নেই। বর্তমানে দেশের নদ-নদীগুলো যৌবন হারিয়ে বৃদ্ধ অবস্থায় মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। যৌবনহারা এসব নদী বাঁচিয়ে রাখতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাও চোখে পড়ে না। এখনই নদীগুলোকে বাঁচানো না গেলে দেশকে একসময় বাঁচানো সম্ভব হবে না। কারণ নদীগুলো ঘিরেই গড়ে উঠেছিল দেশের প্রতিটি শহর, বন্দর ও হাটবাজার। এগুলো এখন শুধুমাত্র স্মৃতি।

এক সময় মালামাল পরিবহন ও যোগাযোগের সহজ উপায় ছিল নৌকা। এখন এই নৌকার দেখা মেলা ভার। সময়ের বিবর্তনে যেটুকু নদী পারাপারের বাহন রয়েছে তা দখল করেছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। জলবায়ু পরিবর্তন, দখল, দূষণসহ নানা কারণে নদনদীর অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে।

বিলুপ্তপ্রায় এসব নদী নিয়ে বিস্তর লেখা হলেও সমাধানের কোন সুনিদৃষ্ট পথ খুঁজে পাওয়া যায়নি। নদী নিয়ে সুনিদৃষ্টি কর্মপরিকল্পনা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে আবহাওয়া ও জলবাযু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে নদী স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। বৃষ্টিপাত কম হওয়া ও খরা মৌসুমে অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। এছাড়া ভারতের একতরফা নদী শাসনের ফলে নদনদী খাল বিল পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। গত সাড়ে চার দশকে দেশ থেকে হারিয়ে গেছে কয়েকশ নদী ও খেয়া ঘাট। এখনো শতাধিক নদী যৌবন হারিয়ে ক্ষীণ ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। দিনের পর দিন পলি পড়ে ভরাট হয়ে নাব্যতা ও গভীরতা হারাচ্ছে দেশের নদীগুলো।

প্রতি বছর দেশের নদ-নদীতে গড়ে জমা পড়ছে ৪ কোটি টন পলি। ফলে নৌপথ ছোট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। গত ৪৮ বছরে নৌপথের দৈর্ঘ্য কমেছে ১৯ হাজার কিলোমিটার। স্বাধীনতার আগে দেশে নৌপথের দৈর্ঘ্য ছিল ২৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার, এখন তা কমে মাত্র ৫ হাজারেরও নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। খননের অভাবে পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ অন্যান্য নদীগুলো এখন ধু-ধু বালুচর। এছাড়া দেশজুড়েই অব্যাহত রয়েছে নদী দখল ও দূষণ। ফলে কৃষি, জনস্বাস্থ্য, প্রাণি,উদ্ভিদ হুমকির মুখে পড়েছে।

অন্য দিকে নৌপথ তার গতীপথ হারিয়ে প্রায় এখনো ঘটছে ছোট-বড় লঞ্চ দূর্ঘটনা। গত ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ দিবাগত গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জের মেঘনা নদীতে একটি তেল বোঝাই কার্গোর সাথে ধাক্কা লেগে একটি ট্রলার ডুবে যায়৷ মাটি বোঝাই ওই ট্রলারটিতে ৩৪ জন শ্রমিক ছিলেন৷ তাঁদের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে তীরে উঠলেও বাকি ২০ জনের ১৮জনেরই এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি৷

গত ১৪ বছর ধরে নৌ নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন নোঙর-এর হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫৩৫টি বড় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে৷ এতে ৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে৷ এসব দুর্ঘটনা তদন্তে ৮শ ৬৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ এই যে তদন্ত কমিটি হয়, তারা কোনোটিরই ফলাফল আমরা প্রকাশ হতে দেখি না৷ আর নৌপথের যানলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেমন কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হয় না৷

নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর-এর সভাপতি সুমন শামস এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন বুড়িগঙ্গা বাচাও আন্দোলনের আহবায়ব জনাব মিহির বিশ্বাস, ওয়ার্কার বিডি’র নিবার্হী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জনি, কবি সৈয়দ এনায়েত আলী, বঙ্গজ’র সাধারণ সম্পাদক জনাব স্বজন সাহাসহ নোঙর পরিবারের সদস্য শাহ নেওয়াজ শাহীন, আমিনুল হক চৌধুরী, মাজেদুল হক, সরকার সজীব, পলাশ দাশ, রিয়াদ আরফানসহ বিভিন্ন নদীপ্রকৃতির সংগঠনের একাধিক প্রতিনিধিগণ।

আদি বুড়িগঙ্গা নদীর ৩৫০ একর বেদখল : নদী রক্ষা জোট

৫ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, (নোঙরনিউজ) : আদী বুড়িগঙ্গা নদী পুণরুদ্ধারের দাবিতে আজ শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০১৯ সকাল ১০:৩০ মিনিটে “নদী রক্ষা জোটের সদস্য ১৩টি নদী ও পরিবেশবাদি সংগঠনের অংশগ্রহণে আদি বুড়িগঙ্গা নদীর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ কর্মসূচী পালন করে।

‘নদী রক্ষা জোট’ আহবায়ক ও ‘নোঙর’ সভাপতি, সুমন শামস মানববন্ধনে বক্তব্যের শুরুতে বলেন, “আদি বুড়িগঙ্গা নদীর বুকে একাধিক সরকারী প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিশেষ কুড়ারঘাট, বুলুর ঘাটের ওপাড়ে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সরকারি হাসপাতাল। তার পাশেই পশ্চিম রসুলপুরে নদীর বুকের উপড় গড়ে তোলা হয়েছে একটি সরকা্রী বিদ্যুৎ ষ্টেশন। এই ধরণের অসংখ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে ঢাকার চার পাশের নদ-নদী দখল করে। এ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলের কারণে আদি বুড়িগঙ্গা নদী দখলে এগিয়ে মেতে উঠেছে নদীখেকো ভূমিদস্যুরা’।

নব্বুই দশকের পরেও আদি বুড়িগঙ্গা নদীতে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ছিলো। আদালতের আইন অমান্য করে এখনও দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নদীখোকোরা। আদি চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন কোম্পানির নামে সাইনবোর্ড ঝুলছে।গত দুই যুগ ধরে চলতে থাকা আদি বুড়িগঙ্গা নদীর জায়গা দখলের কবলে পড়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, লালবাগ, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রাজধানীর পশ্চিমের বুড়িগঙ্গার এই আদি চ্যানেলের প্রায় ৩৫০ একর বেদখল হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, সিটি কপোর্রেশনের সকল বর্জ্য, আবর্জ্যনা ভরাট কাজের বিষেশ সহযোগিতা করছে। যে কারণে মেটাডোর কোম্পানী, পান্না বেটারী, সিকাদার মেডিক্যেলেসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আদী বুড়িগঙ্গা নদীর অস্তিত্ব বিলীন কর অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে।

আমরা চাই সেনা বাহিনীর সহযোগিতায় এ নদী দখলমুক্ত করে নদীটিকে ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথের সাথে যুক্ত করে আদি বুড়িগঙ্গা নদীতে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করা হোক। মিশে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলে রিকশার গ্যারেজ থেকে শুরু করে টেম্পুস্ট্যান্ড, অবৈধ মার্কেট, ট্রাকস্ট্যান্ড, বাড়িঘর, এমনকি মসজিদ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। বছরের পর বছর এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও সেসব দখল প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো নির্বিকার ভূমিকা পালন করে চলেছে।

বুড়িগঙ্গা বাচাও আন্দোলনের আহবায়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, কামরাঙ্গীরচর ২ নম্বর পূর্ব রসুলপুর পাকা ব্রিজ ঘেঁষে বালুমাটি দিয়ে নদী ভরাট করে দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে। এ ব্রিজের ১শ’ গজ দূরে নবাবগঞ্জ সেকশন ও কামরাঙ্গীরচর রনি মার্কেট সংযোগস্থলে নির্মিত পাকা ব্রিজ ঘেঁষে বিশাল অংশ দখল করে মার্কেট ও বসতঘর নির্মাণ করে ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এ আদি চ্যানেলের বুকের ওপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বক্সকালভার্ট নির্মাণ করায় পশ্চিমের নদীর বুক দখলের মহোৎসব আবারও শুরু হয়েছে।

পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি আমির হাসান মাসুদ বলেন, মানব জাতীকে রক্ষা করার এবং প্রাণীকূলের অস্তিত্ব রক্ষা করতে আজকে আমাদের এই আয়োজন। আমাদের সকল প্রাণীকূলের খাদ্য উৎপাদনে আমাদের নদীগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অথচ সেই নদীগুলো আজ দখল-দূষণের কারণে ফসল এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।সে কারণে আমাদের খাদ্যের সাথে মিশ্রিত বিশাক্ত ক্যামিক্যাল যুক্ত খাবার খেয়ে আমরা মৃত্যুর মুখে ধাবিত হচ্ছি।

রিভারাইন পিপলের পরিচালক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নদী রক্ষা জোট থেকে আমরা দখল-দূষণে আক্রান্ত সকল নদী পুণরুদ্ধারের জন্য একতা বদ্ধ হয়েছি। আমরা দেখছি সরকারের মধ্যেই আদী বুড়িগঙ্গা নদীর দখল প্রসঙ্গে অনেক ভুল ধারণা এখনো কাজ করছে।তাই আজকে আমরা বৃটিশ আমলের ১৯১৩ সালের একটি ম্যাপ এবং ১৯৭১ সালের একটি ম্যাপ নিয়ে এসেছি।এই ম্যাপ অনুযায়ী আজকে আমাদের পর্যবেক্ষণ কর্মসূচী পালন করা হবে।

আমরা দেখবো যে, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের নদীটি কেমন ছিলো এবং বৃটিশ সময়ে এই নদীটি কেমন ছিলো। কোন কোন নদী দখল ও দূষণের কারণে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ এসব দেখে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্তৃপক্ষকে একটি প্রতিবেদন পেশ করে গণমাধ্যমে তা প্রকাশ করবো।

সচেতন নগরবাসীর আহবায়ক জনাব রুস্তুম খান বলেন, হাজারীবাগের সেকশন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন শাখা নদীর দু’পাশে সেমিপাকা ঘর, দোকান, গ্যারেজ গড়ে তোলা হয়েছে। এসব দোকান থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল দৈনিক এবং মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া আদায় করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব দখলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও ভূমিকা রয়েছে। আমরা চাই এই নদী অবিলম্বে দখলমুক্ত করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়া হোক।

তুরাগ নদী সুরক্ষা কমিটির সভাপতি, মোহাম্মদ আলী সমাবেশের সকলের সাথে নদী রক্ষার শপথ গ্রহণ করে বলেন, বর্ষা মৌসুমে বুড়িগঙ্গা নদীসৃষ্ট বন্যা থেকে নগরবাসীকে বাঁচাতে আশির দশকে তৎকালীন এরশাদ সরকার আবদুল্লাহপুর থেকে সোয়ারিঘাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। এ বেড়িবাঁধ করার মূল লক্ষ্য ছিল রাজধানীকে বন্যামুক্ত করার পাশাপাশি বুড়িগঙ্গার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। সরকার ভালো উদ্দেশ্যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলেও অবৈধ দখলদাররা বেড়িবাঁধকে কেন্দ্র করে দখলযজ্ঞ শুরু করেছে। তাই নদী সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনে আমরা জীবন দিতে প্রস্তত আছি।

পরিবেশ আন্দোলনের সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, এক সময় ভাবা হয়েছিল বুড়িগঙ্গাকে টিকিয়ে রাখার জন্য নদীর দুই পাড়ে এভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ (ওয়ার্কওয়ে) করা হবে। আর নদীর বুক ঘিরে ফ্লাইওভার নির্মাণ করে রাজধানীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে। নদীর দখলদারদের চাপে পশ্চিমের শাখা নদী বেড়িবাঁধ ঘেঁষে নদীর বুকে সিটি কর্পোরেশনে আবর্জনা ফেলে দখল করা হচ্ছে। দখলের এ ধারাবাহিকতা এখনো চলমান আছে। নদী রক্ষা জোটের দাবি, ‘সিএস নকশা অনুযায়ী আদি বুড়িগঙ্গা নদীর দখল উচ্ছেদ করে দ্রুত সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নদীকে খনন করে নৌ-যোগাযোগ চালু করতে হবে’।

“নদী রক্ষা জোটের” আহবায়ক ও নোঙর সভাপতি, সুমন শামস এর আহবানে কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন মিহির বিশ্বাস, আহবায়ক, বুড়িগঙ্গা বাচাও আন্দোলন এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন। মোহাম্মদ আমির হোসেন মাসুদ, পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি। মোহাম্মদ এজাজ, পরিচালক, রিভারাইন পিপল। মোহাম্মদ আলী, সভাপতি, তুরাগ নদী সুরক্ষা কমিটি। মোহাম্মদ রুস্তুম খান, আহবায়ক, সচেতন নগরবাসী।আমিনুল ইসলাম টুব্বুস, সভাপতি, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ।

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জনী, রাঙ্গাবালী কল্যণ পরিষদ। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মহানগন সমন্বয়ক, ঘাতক দালাল র্নিমূল কমিটি। তৌহিদুল ইসলাম মাতীন, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব, বাংলাদেশ কিন্ডারর্গাডেন এডুকেশন সোসাইটি। আমিনুল হক চৌধুরী, সদস্য নোঙর। সৈয়দ শাহ নেওয়াজ শাহীন ও মো. নান্নু চৌধুরী, সদস্য নোঙর। মো. শাহজাহান, সম্মানিত সদস্য, নোঙর। মোহাম্মদ সবুজ, ঢাকা মহানগর সদস্য, নোঙর। বাবু, আহবায়ক, ঢাকার হালচাল।মো. রমজান দেওয়ান বাবু, নোঙর পরিবারের সম্মানিত সদস্য নান্নু চৌধুরী ও সরকার সজীব। মো. মাসুদুর রহমান শামীম, সদস্য, বুড়িগঙ্গা বাচাও আন্দোলন। মোহাম্মদ মাসুদ সদস্য, তুরাগ নদী সুরক্ষা কমিটি। মোহাম্মদ ফারুখ, সদস্য, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ এবং জীবন আহসান, সদস্য, নোঙর কেন্দ্রীয় কমিটি।

নদীকে জীবন্ত মানবিক সত্তার দাবিতে নোঙর এর ভাসমান সেমিনার

স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতীয় স্লোগান ছিল পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা। কিন্তু স্বাধনীতার ৪৬ বছর পর সেসব ঠিকানা হারিয়ে যেতে বসেছে। তাতে জীবন যাপন, কৃষি চাষ, সবুজ প্রকৃতি, জলজ প্রাণী ও সার্বিক পরিবেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। তাই নদীকে ‘জীবন সত্তা’ ঘোষণার দাবিতে আজ সোমবার ভাসমান এক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে বক্তব্য রেখেছেন নদী সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট জনেরা। এই সেমিনারে তাদের বলা কথাগুলোর যে মূল ব্যক্তব্য উঠে এসেছে তা হলো নদীর স্বার্থ রক্ষা, নদী বেদখল ও দূষণমুক্ত রাখতে সম্ভাব্য করণীয় বিয়ষগুলো।

নিউজিল্যান্ডের মাওরি সম্প্রদায় হোয়াংগুই নদীর স্বীকৃতির জন্য দীর্ঘ ১৬০ বছর লড়াই করে অবশেষে গেল বছরের ১৬ মার্চ নিউজিল্যান্ড তাদের হোয়াংগুই নদীকে আইনগতভাবে জীবন্ত মানবিক সত্তা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ঠিক চার দিন পর ভারতের আদালত গঙ্গা ও যমুনা নদীকে জীবন্ত মানবিক সত্তা ঘোষণা করেছেন। তখন থেকে এ নদী দুটো মানুষের মতো সমান অধিকার ও মর্যাদা পেয়েছে। এটা পৃথিবীতে দ্বিতীয় রায় যে নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই পদাঙ্ক অনুসারে নদীমাতৃক বাংলাদেশেও নদীকে জীবন্ত মানবিক সত্তার দাবি উঠে এসেছে ভাসমান এই সেমিনার থেকে। সেমিনার শেষে পাপেট শো এর মাধ্যমেও নদীকে জীবন সত্তা ঘোষণা করার অপরিহার্যতা তুলে ধরা হয়।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে এখনও কোনো নদী নীতিমালা নেই! ২০০৯ সালে নদনদী রক্ষায় হাইকোর্ট থেকে একটি রায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাও ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়াও নদী রক্ষায় জাতীয় নদী কমিশন ও টাস্কফোর্স রয়েছে। এদের কোনো সুপারিশও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই নদীও রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই যথা শিগগির নদী রক্ষা করাটা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। আর তা না হলে দখল-দূষণে মুমূর্ষু অবস্থায় থাকা নদীগুলো তাদের অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।

তাই নদীমাতৃক বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বহুমাত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে নোঙরের পক্ষে দেশের নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। এটাকে আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নদীর অধিকার নদীকেই বুঝিয়ে দেওয়াটা জরুরী হয়ে পড়েছে। তাহলে প্রত্যেকটি নদী নিজেই বাদী হয়ে নিজেকে সুরক্ষার জন্য আদালতে রিট করতে পারবে, মামলা করতে পারবে।

এই দাবি পূরণের লক্ষ্যে নদী সংশ্লিষ্ট, সরকার ও দেশবাসীর কাছে নোঙরের চেয়ারম্যান সুমন সামনের আহ্বান, ‘’আসুন নদীর প্রতি আমরা সচেষ্ট হই, নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করে নদীর প্রতি আমরা সদয় হই। তাহলে নদী আমাদের বাঁচিয়ে রাখবে আর আমাদের দেশটি আরও সবুজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে।’

সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ভাসমান সভার জাহাজটি চাঁদপুরের উদ্দেশে ছাড়ে। সেখান থেকে নৌযানটি মুন্সগঞ্জ ভায়া হয়ে ঢাকায় ফেরে। ম্যারাথন ব্যাপি এই সেমিনারে তাদের নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন। তবে এই যাত্রায় সঙ্গী হতে না পারলেও ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহা পরিচালক (প্রশাসন) জনাব কবির বিন আনোয়ার। সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন নদী-নিরাপত্তা সংগঠনের আহ্ববায়ক সুমন শামস।

এছাড়া সেমিনারে অংশ হিউম্যান রাইটস্ এন্ড পীস ফর বাংলাদেশে এর সভাপতি এডভোকেট মনজিল মোরশেদ, ইসাবেলা ফাউন্ডেশন এর প্রধান উপদেষ্টা ও প্রকৃতি বিজ্ঞানীড. আনিসুজ্জামান খান, চ্যানেল আই এর নিউজ এডিটর মীর মাশরুর জামান, রিভারাইন পিপল এর মহাসচিব শেখ রোকন, শিক্ষক নুসরাত জাহান, বিআইডব্লিউ এর সাবেক প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, পরিবেশ বিষয়ক জেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি জনাব শমসের আলী, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন এর আহবায়ক মিহির বাশ্বাস, গ্রীন বাংলা কোয়ালিশন এর আহবায়ক শামসুল মোমেন পলাশ, নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলন এর আহ্ববায়ক আমিনুর রসুল, এডভোকেট মাহবুবুর রাহমান, রোটারি ক্লাব অব আগারগাও এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম তুহিনসহ অন্যরা।

অবশ্য নদীকে জীবন সত্তা ছাড়াও এই ভাসমান সভা থেকে মোট ৯টি দাবি উঠে এসেছে। সেগুলো হলো:

১. নদী সমূহকে-‘জীবন্ত সত্বা’ ঘোষণা করা।
২. ২৩ মে জাতীয় নৌ-নিরাত্তা দিবস ঘাষণা করা।
৩. ‘জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭’ অনুস্বাক্ষর করা।
৪. নদী ভাঙন রোধ করে নদী সিকস্তি মানুষের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
৫. আদি বুড়িগঙ্গা নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীপথ উদ্ধার করে নৌযান চালু করা।
৬. বেদখল হওয়া খাল, জলাশয় ও পুকুর উদ্ধার করা।
৭. নদীর প্লাবণভূমি চিহ্নিত করে বৃক্ষরোপণ করা।
৮. ভারতের নদী সংযোগ প্রকল্প বাতিল করা।
৯. অভিন্ন নদীর পানির সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে দেশের সকল নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা।