নোঙর-কক্সবাজার জেলা থেকে গণমাধ্যম কর্মী সেলিম উদ্দিন সম্মানিত সদস্য মনোনিত হলেন।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার অতন্দ্রপ্রহরী গণমাধ্যম কর্মী সেলিম উদ্দিন ( ফুলছড়ি নদী) কে’ কক্সবাজার জেলা থেকে নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর এর সম্মানিত সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।

নদী ও পরিবেশ নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’ প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন শামস আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

‘নোঙর’ গণমাধ্যম কর্মী সেলিম উদ্দিন এর সুদীর্ঘ জীবন ও সাফল্য কামনা করছে।

দেশজুড়ে নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে সারা দেশের নদী যোদ্ধাদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী ইতিমধ্যেই জেলা কমিটি গঠন করার কাজ শুরু করেছে।

১. ঢাকা ২. খুলনা ৩. চট্রগ্রাম ৪. রাজশাহী ৫. বরিশাল ৬. সিলেট ৭. রংপুর ৮. ময়মনসিংহ বিভাগের কমিটির পাশাপাশি ৬৪ জেলার নদী প্রকৃতি সুরক্ষার লক্ষ্যে তরুণদের সমন্বয়ে এই জেলা কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার ধরাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

নদীমাতৃক দেশের নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন, নোঙর পতাকা তলে একতাবদ্ধ হোন।

https://nongornews.com/2020/02/11/%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%99%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87/

বাংলাদেশের নদীর অববাহিকা

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। শাখা-প্রশাখাসহ প্রায় ৮০০ নদ-নদী বিপুল জলরাশি নিয়ে ২৪,১৪০ কিলোমিটার জায়গা দখল করে দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম তুহিন :  বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” বাংলাদেশের নদীগুলোকে সংখ্যাবদ্ধ করেছে এবং প্রতিটি নদীর একটি পরিচিতি নম্বর দিয়েছে। এর ফলে তাদের হিসাব অনুযায়ি বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা এখন ৪০৫টি। পাউবো কর্তৃক নির্ধারিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী (১০২টি) , উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী (১১৫টি), উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী (৮৭টি), উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী (৬১টি), পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের নদী (১৬টি) এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী (২৪টি) হিসেবে বিভাজন করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।


নদীমাতৃক বাংলাদেশে অসংখ্য নদনদীর মধ্যে অনেকগুলো আকার এবং গুরুত্বে বিশাল। এসব নদীকে বড় নদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।বৃহৎ নদী হিসেবে কয়েকটিকে উল্লেখ করা যায় এমন নদীসমূহ হচ্ছে: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলি, শীতলক্ষ্যা, গোমতী ইত্যাদি।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী:
আঠারবাঁকি, আড়িয়াল খাঁ নদ, আতাই, আন্ধারমানিক, আফ্রা, অর্পণগাছিয়া, ইছামতি-কালিন্দি, কচা, কপোতাক্ষ নদ, কুমার নদ (চুয়াডাঙ্গা), কুমার নদী (ফরিদপুর-গোপালগঞ্জ), কুমার আপার নদী, কুমার লোয়ার নদী, কয়রা, করুলিয়া, কাকশিয়ালী, কাজীবাছা, কাটাখালী, কাটাখাল, কালীগঙ্গা (পিরোজপুর), কীর্তনখোলা, খায়রাবাদ, খোলপেটুয়া, গড়াই, গুনাখালি, গলঘেসিয়া, গুলিশাখালী, ঘাঘর, ঘাসিয়াখালী, চত্রা, চুনকুড়ি, চন্দনা-বারাশিয়া, চাটখালী, চিত্রা, ঝপঝপিয়া, টর্কি, টিয়াখালি, ঢাকি, তেঁতুলিয়া, তেলিগঙ্গা-ঘেংরাইল, দড়াটানা-পয়লাহারা, দাড়ির গাঙ, দেলুতি, নুন্দা-উত্রা, নবগঙ্গা, নড়িয়া, নেহালগঞ্জ-রঙমাটিয়া, পটুয়াখালী, পুটিমারি, পুরাতন পশুর, পশুর, পাণ্ডব, পানগুছি, পালং, ফটকি, বগী, বুড়িশ্বর-পায়রা, বলেশ্বর, বাদুড়গাছা, বিশখালী, বিশারকন্দা-বাগদা, বিষ্ণু-কুমারখালি, বেগবতী, বেতনা, বেলুয়া, ভদ্রা, ভুবনেশ্বর, ভৈরব নদ, ভৈরব নদী (বাগেরহাট), ভৈরব-কপোতাক্ষ নদ, ভোলা, মংলা, মুক্তেশ্বরী টেকা, মধুমতি, মরিচ্চাপ-লবঙ্গবতী, মাথাভাঙ্গা, মাদারগাঙ, মাদারীপুর বিলরুট, মালঞ্চ, মিনহাজ, রূপসা, রাবনাবাদ, রায়মঙ্গল, লোহালিয়া, শাকবাড়িয়া, শাতলা-হারতা-নাথারকান্দা, শালদহ, শিবসা, শোলমারি, সুগন্ধা, সন্ধ্যা, সয়া-হাড়িভাঙ্গা, সাপমারা-হাবড়া, সালতা, সিরাজপুর হাওর, হরি, হরিহর, হামকুড়া, হাড়িয়া, হাপরখালী, হাবরখালী, হিশনা-ঝাঞ্চা নদী

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী:
আখিরা-মাচ্চা, আত্রাই, আত্রাই বা কাঁকড়া (দিনাজপুর), আত্রাই বা গুড় (নওগাঁ-নাটোর), আত্রাই (পাবনা), আলাই, আলাইকুমারী, ইছামতি (দিনাজপুর), ইছামতি (পাবনা), ইছামতি (বগুড়া), ইছামতি (বগুড়া-সিরাজগঞ্জ), ইরামতি, করতোয়া, করতোয়া (নীলফামারী), কাগেশ্বরী, কাটাখালী (গাইবান্ধা), কালা, কালাপানি, কালুদাহা, কুমলাল-নাউতারা, কুরুম, কুলিক, খড়খড়িয়া-তিলাই, খালসিডিঙ্গি, গদাই, গভেশ্বরী, পদ্মা, গাংনাই, গিদারী, গিরাই, গুকসী, গোবরা, গোহালা, ঘড়িয়া খাল, ঘাঘট, ঘিরনাই, ঘোড়ামারা, চাওয়াই, চিকনাই, চিকলী, চিরি, চিড়ি, চুঙ্গাভাঙ্গা, ছাতনাই, ছোট ঢেপা, ছোট যমুনা, ছোট সেনুয়া, টাঙ্গন, ডাহুক, ঢেপা, তালমা, তিস্তা, তিস্তা (পঞ্চগড়), তীরনই, তীরনই (পঞ্চগড়), তুলসীগঙ্গা, দুধকুমার, দেওনাই-চাড়ালকাটা-যমুনেশ্বরী, ধরলা, ধাইজান, ধুম, নর্ত, নলশীসা, নলেয়া, নাগর আপার নদী, নাগর লোয়ার নদী, নারোদ, পলিমারি, পাগলা, পাথরঘাটা, পাথরাজ, পুনর্ভবা, পেটকী, ফকিরনী, ফুলকুমার, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, বড়াল আপার নদী, বড়াল লোয়ার নদী, বাঙালি, বাদাই, বার্নাই, বান্নী, বুরাইল, বুল্লাই, বুড়িখোড়া, বুড়ি তিস্তা, বেরং, বেলান, বেসানী, বোরকা, ভাদাই, ভুল্লী, ভেরসা, মহানন্দা আপার নদী, মহানন্দা লোয়ার নদী, মাইলা, মালদাহা, মুসাখান, মানস, যমুনা (পঞ্চগড়), রতনাই, রামচণ্ডি, রাক্ষসিনী-তেঁতুলিয়া, লেংগা, লোনা, শিব, সতী-স্বর্ণামতি-ভাটেশ্বরী, সিমলাজান, সিরামাখালী খাল, সিংগিমারী, সুই, সেনুয়া, সোজ, হারাবতী, হুড়াসাগর নদী

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী:
আত্রাখালি, আবুয়া নদী বা নান্দিয়া গাং, আমরি খাল, ইসদার খাল-বারভাঙ্গা নদী, উপদাখালী, উমিয়াম, কর্ণঝরা, কর্ণ-বালজা, করিস, কাঁচামাটিয়া, কাপনা, কামারখাল, কামারখালী, কালদাহার-কানিয়াকুল, কালনী, কালাপানিঝরা, কুশিয়ারা, কোরাঙ্গী, খাজাচিং, খাসিমারা, খেপা, খোয়াই, গুমাই, ঘাগটিয়া, ঘানুরা-বগালা, ঘোড়াউত্রা, চামতি, চিতলখালী, চেলা, জাফলং-ডাউকি, জালিয়া ছড়া, জালুখালি, জুরী, ডাউকা, ধলা, দুধদা, দোলতা, ধনু, ধলাই-বিসনাই, ধলাই, নকলা-সুন্দ্রাকাশি, নরসুন্দা, নলজুর, নয়াগাং, নয়া গাং, নিতাই, পাটনাই-পাইকারতলা, পাবিজুড়ি-কুশি গাঙ-কুশিয়া, পিয়াইন, পিয়াইন (সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা), পুরনো সুরমা, পোড়া খাল-খাইয়া, বটরখাল, বড় গাং, বাউলাই, বাথাইল, বালই, বিজনা-গুঙ্গাইজুরি, বিবিয়ানা, বেকরা, বেতৈর, বেদুরি, ভাবনা-বাঁশিয়া-বহিয়া, ভোগাই-কংস, মগড়া, মনু, মরা সুরমা, মহারশি, মহাসিং, মালিজি, মিরগী, জাদুকাটা-রক্তি, লংলা, লাইন, লাউরানজানি, লুভা, সাইদুলি-বারনি, সাতারখালী, সারি গোয়াইন, সিনাই, সিঙ্গুয়া, সুতাং, সুরমা, সোনাই-বরদাল, সোমেশ্বরী, সোমেশ্বরী (ধর্মপাশা), সোমেশ্বরী নদী (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতি)

উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী:
আইমান-আখিলা, আইমান-মোবারি, আড়িয়াল খাঁ, ইছামতি (মানিকগঞ্জ), ইছামতি (সিরাজদিখান), ইলিশমারী, এলংজানী, কাটাখালি, কালিগঙ্গা (মানিকগঞ্জ), খিরো (ত্রিশাল), খিরো (ভালুকা), গাংডুবি, গাজীখালী, গোল্লার, চাতাল, চাপাই, চিলাই, জয়পাড়া খাল, ঝারকাটা, জিঞ্জিরাম, ঝিনাই, টঙ্গী, টংকি, তালতলা, তুরাগ, তুলসীখালী, ধলেশ্বরী, নাগদা, নাঙ্গলা, নালজুরি, নাংলী, পদ্মা, পাগারিয়া-শিলা, পারুলি খাল, পাহাড়িয়া, পুরনো ধলেশ্বরী, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, পুংলী, বংশী, বংশী (সাভার), ব্রহ্মপুত্র (নরসিংদী-মুন্সীগঞ্জ), বাকসাতরা, বাজ্জা-মেধুয়া, বানার আপার নদী, বানার লোয়ার নদী, বালু, বুড়িগঙ্গা, বৈরান, বোশখালী, মরা জিঞ্জিরাম, মাহারি, মিনিখালী, লাবুন্ধা, লৌহজং, শীতলক্ষ্যা, সালদা, সুতী, সুতিয়া, সোনাখালী, হাই, হাড়িদোয়া নদী

পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের নদী:
ইছামতি (রাঙ্গামাটি), ঈদগাও, কর্ণফুলি, কাসালং, চেঙ্গি, ডলু-টংকাবতী, নাফ, বুড়া মাতামুহুরী, বাঁকখালি, ভারুয়াখালি, ভোলাখাল, মাইনী, মাতামুহুরী, রাংখাইন, সাঙ্গু, হালদা নদী

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী:
আর্সি-নালিয়া, কাকড়ি, কাস্তি, গোমতী, ঘুংঘুর, ছোট ফেনী, ডাকাতিয়া, ডাসাডিয়া, তিতাস, পুরনো তিতাস, ধনাগোদা, ফেনী, বিজলি, বুড়ি, ভুলুয়া, মুহুরী, মেঘনা আপার নদী, মেঘনা লোয়ার নদী, লহর, লংগন বলভদ্রা, সালদা, সেলোনিয়া, সোনাই, হাওড়া নদী

বাংলাদেশ-ভারত-মায়ানমার আন্তঃসীমান্ত নদীর তালিকা:
রায়মঙ্গল, ইছামতী-কালিন্দী, বেতনা-কোদালিয়া, ভৈরব-কপোতাক্ষ, মাথাভাঙ্গা, গঙ্গা, পাগলা, আত্রাই, পুনর্ভবা, তেতুলিয়া, টাংগন, কুলিক বা কোকিল, নাগর, মহানন্দা, ডাহুক, করতোয়া, তালমা, ঘোড়ামারা, দিওনাই-যমুনেশ্বরী, বুড়িতিস্তা, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম, চিল্লাখালি, ভোগাই, সোমেশ্বরী, দামালিয়া/যালুখালী, নয়াগাঙ, উমিয়াম, যাদুকাটা, ধলা, পিয়াইন, শারি-গোয়াইন, সুরমা, কুশিয়ারা, সোনাই-বারদল, জুরি, মনু, ধলাই, লংলা, খোয়াই, সুতাং, সোনাই, হাওড়া, বিজনী, সালদা, গোমতী, কাকরাই-ডাকাতিয়া, সিলোনিয়া, মুহুরী, ফেনী, কর্ণফুলি, নিতাই, সাংগু, মাতামুহুরী, নাফ নদী

অন্যান্য নদী:
আন্তঃসীমান্ত নদী এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবাহিত ৪০৫টি নদী ছাড়াও আরও প্রায় চার শতাধিক নদী রয়েছে।

আউলিয়াখানা, আমনদামন, আস্তাইল, কম্পো, কাওরাইদ, কাজীপুর, কালিন্দী, খাড়িয়া, গন্দর, গুমানি, খোয়াথল্যাংতুইপুই, চিলাই (সুনামগঞ্জ), চোরখাই, জলঢাকা, তেতুলিয়া, তৈনগাঙ, থেগা, নাগেশ্বরী, ধানখালী, ধানসিঁড়ি, নীলগঞ্জ, পঞ্চবেণী, প্রাণসায়র, ফটিকছড়ি, বরাক, বান্দসা, বুড়ো গৌরাঙ্গ, ময়ুর, রহমত খালি, রায়ডাক, লঙ্গাই, শুক, সোয়াই, হরবাংছড়া, হরিণঘাটা, হাড়িয়াভাঙা, হেরাচামতি নদী

‘নোঙর-খুলনা জেলা’র আহবায়ক ইলিয়াস হোসেন লাবু এবং মোঃ মাহামুদুল হাসান শাওন সদস্য সচিব মনোনিত হলেন

নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর-খুলনা জেলা’ শাখার আয়োজনে গত বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২০ বিকাল ৫ ঘটিকায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খুলনা শহরের ট্যাঙ্ক রোডস্থ ২৯ ওর্য়াড কার্যালয় এ সভায় ‘নোঙর-খুলনা জেলা’র সর্ব সম্মতি ক্রমে সদস্যদের উপস্থিতিতে সমাজ কর্মী জনাব ইলিয়াস হোসেন লাবু কে আহবায়ক এবং মোঃ মাহামুদুল হাসান শাওন কে সদস্য সচিব ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া ১. অভিজিৎ চক্রবর্তী দেবু, ২. অভিজিৎ পাল, ৩.বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, ৪.আশিক ইকবাল, ৫.মুস্তাইন বিন ইদ্রিস চঞ্চল, ৬.শাহরিয়ার শিকদার কে আহবায়ক কমিটির সদস্য ঘোষণা করা হয়েছে।

নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন শামস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খুলনা জেলা শাখার নবগঠিত আহবায়ক কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের নদ-নদী, খাল, পুকুর ও জলাশয় রক্ষায় গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে পর্যায়ক্রমে খুলনা মহানগর কমিটি গঠন করার প্রস্তা উঠে আসে।

পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক খুলনা জেলার নদীর মানচিত্র অনুযায়ী উপজেলা এবং থানা পর্যায়ে নদী সুরক্ষার কার্যক্রম বিস্তার করতে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

‘নোঙর-খুলনা’ জেলা শাখার প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

নদী ও পরিবেশ রক্ষার্থে ‘নোঙর-খুলনা’ জেলা শাখার প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হলো।

নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর-খুলনা জেলা’ শাখার আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২০ বিকাল ৫ ঘটিকায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খুলনা শহরের ট্যাঙ্ক রোডস্থ ২৯ ওর্য়াড কার্যালয় এ সভায় ‘নোঙর-খুলনা জেলা’র সর্ব সম্মতি ক্রমে সদস্যদের উপস্থিতিতে সমাজ কর্মী জনাব ইলিয়াস হোসেন লাবু কে আহবায়ক এবং মোঃ মাহামুদুল হাসান শাওন কে সদস্য সচিব ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া ১. অভিজিৎ চক্রবর্তী দেবু, ২. অভিজিৎ পাল, ৩.বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, ৪.আশিক ইকবাল, ৫.মুস্তাইন বিন ইদ্রিস চঞ্চল, ৬.শাহরিয়ার শিকদার কে আহবায়ক কমিটির সদস্য ঘোষণা করা হয়েছে।

নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন শামস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খুলনা জেলা শাখার নবগঠিত আহবায়ক কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের নদ-নদী, খাল, পুকুর ও জলাশয় রক্ষায় গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে পর্যায়ক্রমে খুলনা মহানগর কমিটি গঠন করার প্রস্তা উঠে আসে।

পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক খুলনা জেলার নদীর মানচিত্র অনুযায়ী উপজেলা এবং থানা পর্যায়ে নদী সুরক্ষার কার্যক্রম বিস্তার করতে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

‘নোঙর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ জেলা সম্মানিত সদস্য মনোনিত হলেন সমাজকর্মী মোহাম্মদ বুলবুল ফেরদৌস রিপন

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, (নোঙরনিউজ) : নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার অতন্দ্রপ্রহরী সমাজকর্মী মোহাম্মদ বুলবুল ফেরদৌস রিপন (তিতাস নদী) কে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর এর সম্মানিত সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।

নদী ও পরিবেশ নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’ প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন শামস আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

‘নোঙর’ সমাজকর্মী মোহাম্মদ বুলবুল ফেরদৌস রিপন এর সুদীর্ঘ জীবন ও সাফল্য কামনা করছে।

দেশজুড়ে নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে সারা দেশের নদী যোদ্ধাদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী ইতিমধ্যেই জেলা কমিটি গঠন করার কাজ শুরু করেছে।

১. ঢাকা ২. খুলনা ৩. চট্রগ্রাম ৪. রাজশাহী ৫. বরিশাল ৬. সিলেট ৭. রংপুর ৮. ময়মনসিংহ বিভাগের কমিটির পাশাপাশি ৬৪ জেলার নদী প্রকৃতি সুরক্ষার লক্ষ্যে তরুণদের সমন্বয়ে এই জেলা কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার ধরাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

নদীমাতৃক দেশের নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন, নোঙর পতাকা তলে একতাবদ্ধ হোন।

কান্দিপাড়া পুকুর দূষণ রোধে “নোঙর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া” শাখার আহবানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ২৬ জানুয়ারি২০২০, রবিবার দুপুর ১২:০০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া মাদ্রাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাধার মার পুকুরটি দূষণ মুক্ত করতে শিক্ষার্থীরা হাতে বিভিন্ন স্লোগানের প্লেকার্ড নিয়ে নোঙর আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছে।

স্লোগানের মধ্যে রয়েছে : “নিজে সুস্থ থাকুন এবং অন্যকে সুস্থ রাখুন, দূষণমুক্ত পরিবেশে, নিশ্বাস নেন অনায়াসে, রুখবো আবর্জনা গড়বো দেশ, দূষণমুক্ত বাংলাদেশ, বাড়ি ঘরের আবর্জনা, এখানে কেউ ফেলবেন না, মন্দ থাকার দিন শেষ, ভালো রাখুন পরিবেশ, সুস্থ সুন্দর পরিবেশ, ভালো থাকুক বাংলাদেশ, মশা, মাছি ময়লার বাড়ি, রোগ ছড়ায় তাড়াতাড়ি, দূষণ থেকে বাঁচতে চাই, বিদ্যালয়ে পড়তে চাই, নির্মল বাতাস, সুন্দর মন ভালো থাকার আয়োজন, ভালো থাকার পরিবেশ, নিজের হাতে করছি শেষ, ময়লা গন্ধে বাঁচা দায়, একটু ভালো থাকতে চাই, পুকুর দূষণ রোধ করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি, পুকুর দূষণ অপরাধ, সবাই করবো প্রতিবাদ, পুকুর রাখলে পরিষ্কার, সবার হবে উপকার, সবাই মিলে জলাশয় বাঁচাই, নিজে বাঁচি অন্যকে বাঁচাই, রক্তের কেনা বাংলাদেশ, আসুন আমরা দূষণমুক্ত দেশ গড়ি, ময়লা থেকে রেহাই দিন, ভালোবাসায় থাকবে ঋণ, আসুন হাতে হাত ধরি, প্লাস্টিক মুক্ত দেশ গড়ি, রক্ষা করি পরিবেশ, গড়ি সোনার বাংলাদেশ, পলিথিন বর্জন করুন, পরিছন্ন পরিবেশ গড়–ন, দূষণ হঠাও পরিবেশ বাঁচাও”।

মাদ্রাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাঈম খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোঙর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি শামীম আহমেদ, সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খালেদা মুন্নী, কাশেম মোল্লা, মাদ্রাসা সরকারি প্রাতমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মো. আরমান মিয়া, ইকরামুল হক রুবেল, অঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আনিছুল হক রিপন, নাঈম বীন সওদাগর, মুফতী মো. এনামুল হাসান, বিজয় টিভির প্রতিনিধি খাইরুল কবির, কামরুজ্জামান টিটু, সোহেল খান, শান্তা ইসলাম, আশুতোষ রায়, সাংবাদিক প্রবীর চোধুরী রিপন, পথিক টিভির সম্পাদক জিহাদ হোসাইন লিটন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফেবিন রহমানসহ এলাকাবাসী ও অত্র বিদ্যালয়ের সকল কোমলমতি শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন পরিচালনা করেন নোঙর নির্বাহী সদস্য সোহেল আহাদ। মানববন্ধনে এলাকাবাসী ও বক্তারা বিভিন্ন দাবী তুলে ধরেছেন। বক্তারা বলেন আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এক সময় শত শত পুকুর ছিল। দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য শহরের বিভিন্ন মহল্লায় থাকা উন্মুক্ত জলাশয় ভরাট করে আবাসিক বাড়ি নির্মাণ করে নিঃশ্বেষ করা হচ্ছে পুকুর, ডোবা, নালাসহ বিভিন্ন জলশায়। অবশিষ্ট যা রয়েছে তাও আবার ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। ভূমিদস্যুরা পুকুর, ডোবা, নালা, জলাশয় দখলের জন্য নানা ধরনের অপকৌশল ব্যবহার করছে। যেমন, পুকুরে ময়লা, আবর্জনা, পলিথিন ফেলে জলায়শয়টিকে ব্যবহারের অনুপযোগী করে রাখে। তারপর এক সময় রাতের আঁধারে ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলে জলাশয়টি ভরাট করে আবাসন তৈরি করছে।

হিসনা নদী রক্ষার্থে ‘নোঙর কুষ্টিয়া’ জেলার মতবিনিময় সভা

নদী ও পরিবেশ রক্ষার জাতীয় সংগঠন নোঙর কুষ্টিয়ার উদ্যোগে ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার ভেড়ামারা প্রেস ক্লাবের হলরুমে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নোঙর কুষ্টিয়ার আহবায়ক খলিলুর রহমান মজুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক চেতনায় কুষ্টিয়ার সম্পাদক প্রভাষক জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল, নোঙর কুষ্টিয়ার যুগ্ম আহবায়ক লেখক কলামিস্ট প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, নোঙর কুষ্টিয়ার সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মী প্রিতম মজুমদারসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

মতবিনিময় সভায় হিসনা নদীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। হিসনা নদী রক্ষার্থে জনসাধারণের মধ্যে কিভাবে সচেতনতা তৈরি করা যায় সে বিষয়ে বিশেষভাবে মতবিনিময় হয়। হিসনা নদীকে দখলমুক্ত ও তার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা সিদ্ধান্ত গ্রহন করে নদী প্রেমিক সবাইকে একসাথে কাজ করার আহবান করেন সভার বক্তারা। ‘নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নোঙর সদস্যবৃন্দ।

নদী বাঁচান-দেশ বাঁচান-মানুষ বাঁচান : নোঙর

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৯,(নোঙরনিউজ) : “নদী বাঁচান-দেশ বাঁচান-মানুষ বাঁচান” এই দাবিতে আজ ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাব সড়কে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর এই মানববন্ধের আয়োজন করে।

নোঙর সভাপতি সুমন শামস এক লিখিত প্রতিবেদনে বলেন, আমরা সারা দেশের নদীপ্রমিকরা নদীর কথা বলছি আজ থেকে অনেক দিন আগে থেকে। কারণ নদীমাতৃক দেশের নদীরা ভালো নেই আজ। বিপর্যয় নেমে এসেছে আমাদের বেশির ভাগ নদ-নদীতে। আমাদের অনুসন্ধান বলছে যে, তেরো শত নদীর দেশে এখন জীবিত আছে মাত্র ২৩০টি নদী। উজান দেশের উদাসীনতায় ভাটির দেশের পানি কমে যাওয়ায় আজ আমাদের নদীগুলোর এমন অবস্থা হয়েছে। দেশের ৪০টি নদীতে কমে গেছে পানি, ভয়াবহ পানি সঙ্কটের দিকে এগিয়ে চলছে নদীমাতৃক বাংলাদেশ!

দূযোর্গের মধ্যে এক শ্রেণির লোভি মানুষ পানি শূন্য নদীতে চলাচ্ছে দখলের উতসব। একই সাথে রাজধানীর বিভিন্ন নদী তীরবর্তী এলাকার কল-কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য এবং দূষিত আবর্জনা ফেলার কাজ চলাচ্ছে এখনো। নদীতে দূষিত আর্বজনার কারণে দূষণের মাত্রা এতোই বেড়েছে যে, আদি বুড়িগঙ্গা, নড়াই নদী, বালুনদী, শীতলক্ষা নদীসহ তুরাগ নদীর বিভিন্ন এলাকায় নদীর জলে আগুন জ্বলে! আর এই নদীগুলোর দুই পাড়ের সকল বাসিন্দাদের রোগ ব্যধির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর হিসাব অনুযায়ি বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা এখন ৪০৫টি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ১০২টি, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ১১৫টি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী ৮৭টি, উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী ৬১টি, পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের নদী ১৬টি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী ২৪টি হিসেবে আলাদা করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সুমন শামস আরো বলেন, পদ্মা নদীর শাখা প্রধান শাখা নদী গড়াই, আত্রাই, বড়াল নদী এখন পানির জন্য হাহাকার করছে। এই নদীর সাথে অন্যান্য শাখা নদী গুলোতেও পানির টান পড়তে শুরু করেছে। নদী নির্ভর সেচ কাজ ব্যাহত হয়ে পড়েছে। মাছ শুণ্য হয়ে গেছে বেশীর ভাগ নদ-নদী। এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশে এক ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়বেই।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে অসংখ্য নদনদীর মধ্যে অনেকগুলোই আকার এবং গুরুত্বে বিশাল। এসব নদীকে বড় নদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।বৃহৎ নদী হিসেবে কয়েকটিকে উল্লেখ করা যায় এমন নদীসমূহ হচ্ছে: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলি, শীতলক্ষ্যা, গোমতী ইত্যাদি।

বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী সুরমা। ৩৯৯ কিলোমিটার লম্বা। সবথেকে চওড়া যমুনা। দীর্ঘতম নদ ব্রহ্মপুত্র। বাংলাদেশের সব নদীর উৎপত্তি ভারত কিংবা তিব্বতে। একমাত্র সাংগু নদীর শুরু ও শেষ বাংলাদেশে। দেশের অর্থনীতিতে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। নদীর বয়ে আসা পলিমাটিতেই বাংলাদেশের কৃষিজমি অত্যন্ত উর্বর। কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে নদীই ভরসা। পরিবহণের তিন-চতুর্থাংশ নদীপথে। জলপথ ৫ হাজার ৬৩২ কিলোমিটার। বর্ষায় বেড়ে হয় ৮ হাজার ৪৫ কিলোমিটার। সেচ আর বিদ্যুতের জন্যও নদীর দরকার। নদীর মাছ শুধু দেশের অর্থনীতির স্তম্ভ নয়, বৈদেশিক মুদ্রাও এনে দেয়।

শতসহস্র নদীর এই দেশে নদীগুলো কেমন আছে? এমন প্রশ্ন করা হলে, এক কথায় উত্তর পাওয়া যাবে- ভালো নেই। বর্তমানে দেশের নদ-নদীগুলো যৌবন হারিয়ে বৃদ্ধ অবস্থায় মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। যৌবনহারা এসব নদী বাঁচিয়ে রাখতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাও চোখে পড়ে না। এখনই নদীগুলোকে বাঁচানো না গেলে দেশকে একসময় বাঁচানো সম্ভব হবে না। কারণ নদীগুলো ঘিরেই গড়ে উঠেছিল দেশের প্রতিটি শহর, বন্দর ও হাটবাজার। এগুলো এখন শুধুমাত্র স্মৃতি।

এক সময় মালামাল পরিবহন ও যোগাযোগের সহজ উপায় ছিল নৌকা। এখন এই নৌকার দেখা মেলা ভার। সময়ের বিবর্তনে যেটুকু নদী পারাপারের বাহন রয়েছে তা দখল করেছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। জলবায়ু পরিবর্তন, দখল, দূষণসহ নানা কারণে নদনদীর অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে।

বিলুপ্তপ্রায় এসব নদী নিয়ে বিস্তর লেখা হলেও সমাধানের কোন সুনিদৃষ্ট পথ খুঁজে পাওয়া যায়নি। নদী নিয়ে সুনিদৃষ্টি কর্মপরিকল্পনা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে আবহাওয়া ও জলবাযু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে নদী স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। বৃষ্টিপাত কম হওয়া ও খরা মৌসুমে অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। এছাড়া ভারতের একতরফা নদী শাসনের ফলে নদনদী খাল বিল পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। গত সাড়ে চার দশকে দেশ থেকে হারিয়ে গেছে কয়েকশ নদী ও খেয়া ঘাট। এখনো শতাধিক নদী যৌবন হারিয়ে ক্ষীণ ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। দিনের পর দিন পলি পড়ে ভরাট হয়ে নাব্যতা ও গভীরতা হারাচ্ছে দেশের নদীগুলো।

প্রতি বছর দেশের নদ-নদীতে গড়ে জমা পড়ছে ৪ কোটি টন পলি। ফলে নৌপথ ছোট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। গত ৪৮ বছরে নৌপথের দৈর্ঘ্য কমেছে ১৯ হাজার কিলোমিটার। স্বাধীনতার আগে দেশে নৌপথের দৈর্ঘ্য ছিল ২৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার, এখন তা কমে মাত্র ৫ হাজারেরও নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। খননের অভাবে পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ অন্যান্য নদীগুলো এখন ধু-ধু বালুচর। এছাড়া দেশজুড়েই অব্যাহত রয়েছে নদী দখল ও দূষণ। ফলে কৃষি, জনস্বাস্থ্য, প্রাণি,উদ্ভিদ হুমকির মুখে পড়েছে।

অন্য দিকে নৌপথ তার গতীপথ হারিয়ে প্রায় এখনো ঘটছে ছোট-বড় লঞ্চ দূর্ঘটনা। গত ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ দিবাগত গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জের মেঘনা নদীতে একটি তেল বোঝাই কার্গোর সাথে ধাক্কা লেগে একটি ট্রলার ডুবে যায়৷ মাটি বোঝাই ওই ট্রলারটিতে ৩৪ জন শ্রমিক ছিলেন৷ তাঁদের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে তীরে উঠলেও বাকি ২০ জনের ১৮জনেরই এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি৷

গত ১৪ বছর ধরে নৌ নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন নোঙর-এর হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫৩৫টি বড় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে৷ এতে ৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে৷ এসব দুর্ঘটনা তদন্তে ৮শ ৬৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ এই যে তদন্ত কমিটি হয়, তারা কোনোটিরই ফলাফল আমরা প্রকাশ হতে দেখি না৷ আর নৌপথের যানলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেমন কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হয় না৷

নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর-এর সভাপতি সুমন শামস এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন বুড়িগঙ্গা বাচাও আন্দোলনের আহবায়ব জনাব মিহির বিশ্বাস, ওয়ার্কার বিডি’র নিবার্হী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জনি, কবি সৈয়দ এনায়েত আলী, বঙ্গজ’র সাধারণ সম্পাদক জনাব স্বজন সাহাসহ নোঙর পরিবারের সদস্য শাহ নেওয়াজ শাহীন, আমিনুল হক চৌধুরী, মাজেদুল হক, সরকার সজীব, পলাশ দাশ, রিয়াদ আরফানসহ বিভিন্ন নদীপ্রকৃতির সংগঠনের একাধিক প্রতিনিধিগণ।

আদি বুড়িগঙ্গা নদীর ৩৫০ একর বেদখল : নদী রক্ষা জোট

৫ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, (নোঙরনিউজ) : আদী বুড়িগঙ্গা নদী পুণরুদ্ধারের দাবিতে আজ শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০১৯ সকাল ১০:৩০ মিনিটে “নদী রক্ষা জোটের সদস্য ১৩টি নদী ও পরিবেশবাদি সংগঠনের অংশগ্রহণে আদি বুড়িগঙ্গা নদীর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ কর্মসূচী পালন করে।

‘নদী রক্ষা জোট’ আহবায়ক ও ‘নোঙর’ সভাপতি, সুমন শামস মানববন্ধনে বক্তব্যের শুরুতে বলেন, “আদি বুড়িগঙ্গা নদীর বুকে একাধিক সরকারী প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিশেষ কুড়ারঘাট, বুলুর ঘাটের ওপাড়ে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সরকারি হাসপাতাল। তার পাশেই পশ্চিম রসুলপুরে নদীর বুকের উপড় গড়ে তোলা হয়েছে একটি সরকা্রী বিদ্যুৎ ষ্টেশন। এই ধরণের অসংখ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে ঢাকার চার পাশের নদ-নদী দখল করে। এ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলের কারণে আদি বুড়িগঙ্গা নদী দখলে এগিয়ে মেতে উঠেছে নদীখেকো ভূমিদস্যুরা’।

নব্বুই দশকের পরেও আদি বুড়িগঙ্গা নদীতে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ছিলো। আদালতের আইন অমান্য করে এখনও দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নদীখোকোরা। আদি চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন কোম্পানির নামে সাইনবোর্ড ঝুলছে।গত দুই যুগ ধরে চলতে থাকা আদি বুড়িগঙ্গা নদীর জায়গা দখলের কবলে পড়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, লালবাগ, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রাজধানীর পশ্চিমের বুড়িগঙ্গার এই আদি চ্যানেলের প্রায় ৩৫০ একর বেদখল হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, সিটি কপোর্রেশনের সকল বর্জ্য, আবর্জ্যনা ভরাট কাজের বিষেশ সহযোগিতা করছে। যে কারণে মেটাডোর কোম্পানী, পান্না বেটারী, সিকাদার মেডিক্যেলেসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আদী বুড়িগঙ্গা নদীর অস্তিত্ব বিলীন কর অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে।

আমরা চাই সেনা বাহিনীর সহযোগিতায় এ নদী দখলমুক্ত করে নদীটিকে ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথের সাথে যুক্ত করে আদি বুড়িগঙ্গা নদীতে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করা হোক। মিশে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলে রিকশার গ্যারেজ থেকে শুরু করে টেম্পুস্ট্যান্ড, অবৈধ মার্কেট, ট্রাকস্ট্যান্ড, বাড়িঘর, এমনকি মসজিদ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। বছরের পর বছর এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও সেসব দখল প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো নির্বিকার ভূমিকা পালন করে চলেছে।

বুড়িগঙ্গা বাচাও আন্দোলনের আহবায়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, কামরাঙ্গীরচর ২ নম্বর পূর্ব রসুলপুর পাকা ব্রিজ ঘেঁষে বালুমাটি দিয়ে নদী ভরাট করে দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে। এ ব্রিজের ১শ’ গজ দূরে নবাবগঞ্জ সেকশন ও কামরাঙ্গীরচর রনি মার্কেট সংযোগস্থলে নির্মিত পাকা ব্রিজ ঘেঁষে বিশাল অংশ দখল করে মার্কেট ও বসতঘর নির্মাণ করে ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এ আদি চ্যানেলের বুকের ওপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বক্সকালভার্ট নির্মাণ করায় পশ্চিমের নদীর বুক দখলের মহোৎসব আবারও শুরু হয়েছে।

পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি আমির হাসান মাসুদ বলেন, মানব জাতীকে রক্ষা করার এবং প্রাণীকূলের অস্তিত্ব রক্ষা করতে আজকে আমাদের এই আয়োজন। আমাদের সকল প্রাণীকূলের খাদ্য উৎপাদনে আমাদের নদীগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অথচ সেই নদীগুলো আজ দখল-দূষণের কারণে ফসল এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।সে কারণে আমাদের খাদ্যের সাথে মিশ্রিত বিশাক্ত ক্যামিক্যাল যুক্ত খাবার খেয়ে আমরা মৃত্যুর মুখে ধাবিত হচ্ছি।

রিভারাইন পিপলের পরিচালক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নদী রক্ষা জোট থেকে আমরা দখল-দূষণে আক্রান্ত সকল নদী পুণরুদ্ধারের জন্য একতা বদ্ধ হয়েছি। আমরা দেখছি সরকারের মধ্যেই আদী বুড়িগঙ্গা নদীর দখল প্রসঙ্গে অনেক ভুল ধারণা এখনো কাজ করছে।তাই আজকে আমরা বৃটিশ আমলের ১৯১৩ সালের একটি ম্যাপ এবং ১৯৭১ সালের একটি ম্যাপ নিয়ে এসেছি।এই ম্যাপ অনুযায়ী আজকে আমাদের পর্যবেক্ষণ কর্মসূচী পালন করা হবে।

আমরা দেখবো যে, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের নদীটি কেমন ছিলো এবং বৃটিশ সময়ে এই নদীটি কেমন ছিলো। কোন কোন নদী দখল ও দূষণের কারণে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ এসব দেখে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্তৃপক্ষকে একটি প্রতিবেদন পেশ করে গণমাধ্যমে তা প্রকাশ করবো।

সচেতন নগরবাসীর আহবায়ক জনাব রুস্তুম খান বলেন, হাজারীবাগের সেকশন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন শাখা নদীর দু’পাশে সেমিপাকা ঘর, দোকান, গ্যারেজ গড়ে তোলা হয়েছে। এসব দোকান থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল দৈনিক এবং মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া আদায় করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব দখলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও ভূমিকা রয়েছে। আমরা চাই এই নদী অবিলম্বে দখলমুক্ত করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়া হোক।

তুরাগ নদী সুরক্ষা কমিটির সভাপতি, মোহাম্মদ আলী সমাবেশের সকলের সাথে নদী রক্ষার শপথ গ্রহণ করে বলেন, বর্ষা মৌসুমে বুড়িগঙ্গা নদীসৃষ্ট বন্যা থেকে নগরবাসীকে বাঁচাতে আশির দশকে তৎকালীন এরশাদ সরকার আবদুল্লাহপুর থেকে সোয়ারিঘাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। এ বেড়িবাঁধ করার মূল লক্ষ্য ছিল রাজধানীকে বন্যামুক্ত করার পাশাপাশি বুড়িগঙ্গার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। সরকার ভালো উদ্দেশ্যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলেও অবৈধ দখলদাররা বেড়িবাঁধকে কেন্দ্র করে দখলযজ্ঞ শুরু করেছে। তাই নদী সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনে আমরা জীবন দিতে প্রস্তত আছি।

পরিবেশ আন্দোলনের সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, এক সময় ভাবা হয়েছিল বুড়িগঙ্গাকে টিকিয়ে রাখার জন্য নদীর দুই পাড়ে এভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ (ওয়ার্কওয়ে) করা হবে। আর নদীর বুক ঘিরে ফ্লাইওভার নির্মাণ করে রাজধানীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে। নদীর দখলদারদের চাপে পশ্চিমের শাখা নদী বেড়িবাঁধ ঘেঁষে নদীর বুকে সিটি কর্পোরেশনে আবর্জনা ফেলে দখল করা হচ্ছে। দখলের এ ধারাবাহিকতা এখনো চলমান আছে। নদী রক্ষা জোটের দাবি, ‘সিএস নকশা অনুযায়ী আদি বুড়িগঙ্গা নদীর দখল উচ্ছেদ করে দ্রুত সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নদীকে খনন করে নৌ-যোগাযোগ চালু করতে হবে’।

“নদী রক্ষা জোটের” আহবায়ক ও নোঙর সভাপতি, সুমন শামস এর আহবানে কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন মিহির বিশ্বাস, আহবায়ক, বুড়িগঙ্গা বাচাও আন্দোলন এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন। মোহাম্মদ আমির হোসেন মাসুদ, পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি। মোহাম্মদ এজাজ, পরিচালক, রিভারাইন পিপল। মোহাম্মদ আলী, সভাপতি, তুরাগ নদী সুরক্ষা কমিটি। মোহাম্মদ রুস্তুম খান, আহবায়ক, সচেতন নগরবাসী।আমিনুল ইসলাম টুব্বুস, সভাপতি, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ।

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জনী, রাঙ্গাবালী কল্যণ পরিষদ। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মহানগন সমন্বয়ক, ঘাতক দালাল র্নিমূল কমিটি। তৌহিদুল ইসলাম মাতীন, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব, বাংলাদেশ কিন্ডারর্গাডেন এডুকেশন সোসাইটি। আমিনুল হক চৌধুরী, সদস্য নোঙর। সৈয়দ শাহ নেওয়াজ শাহীন ও মো. নান্নু চৌধুরী, সদস্য নোঙর। মো. শাহজাহান, সম্মানিত সদস্য, নোঙর। মোহাম্মদ সবুজ, ঢাকা মহানগর সদস্য, নোঙর। বাবু, আহবায়ক, ঢাকার হালচাল।মো. রমজান দেওয়ান বাবু, নোঙর পরিবারের সম্মানিত সদস্য নান্নু চৌধুরী ও সরকার সজীব। মো. মাসুদুর রহমান শামীম, সদস্য, বুড়িগঙ্গা বাচাও আন্দোলন। মোহাম্মদ মাসুদ সদস্য, তুরাগ নদী সুরক্ষা কমিটি। মোহাম্মদ ফারুখ, সদস্য, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ এবং জীবন আহসান, সদস্য, নোঙর কেন্দ্রীয় কমিটি।

নদীকে জীবন্ত মানবিক সত্তার দাবিতে নোঙর এর ভাসমান সেমিনার

স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতীয় স্লোগান ছিল পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা। কিন্তু স্বাধনীতার ৪৬ বছর পর সেসব ঠিকানা হারিয়ে যেতে বসেছে। তাতে জীবন যাপন, কৃষি চাষ, সবুজ প্রকৃতি, জলজ প্রাণী ও সার্বিক পরিবেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। তাই নদীকে ‘জীবন সত্তা’ ঘোষণার দাবিতে আজ সোমবার ভাসমান এক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে বক্তব্য রেখেছেন নদী সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট জনেরা। এই সেমিনারে তাদের বলা কথাগুলোর যে মূল ব্যক্তব্য উঠে এসেছে তা হলো নদীর স্বার্থ রক্ষা, নদী বেদখল ও দূষণমুক্ত রাখতে সম্ভাব্য করণীয় বিয়ষগুলো।

নিউজিল্যান্ডের মাওরি সম্প্রদায় হোয়াংগুই নদীর স্বীকৃতির জন্য দীর্ঘ ১৬০ বছর লড়াই করে অবশেষে গেল বছরের ১৬ মার্চ নিউজিল্যান্ড তাদের হোয়াংগুই নদীকে আইনগতভাবে জীবন্ত মানবিক সত্তা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ঠিক চার দিন পর ভারতের আদালত গঙ্গা ও যমুনা নদীকে জীবন্ত মানবিক সত্তা ঘোষণা করেছেন। তখন থেকে এ নদী দুটো মানুষের মতো সমান অধিকার ও মর্যাদা পেয়েছে। এটা পৃথিবীতে দ্বিতীয় রায় যে নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই পদাঙ্ক অনুসারে নদীমাতৃক বাংলাদেশেও নদীকে জীবন্ত মানবিক সত্তার দাবি উঠে এসেছে ভাসমান এই সেমিনার থেকে। সেমিনার শেষে পাপেট শো এর মাধ্যমেও নদীকে জীবন সত্তা ঘোষণা করার অপরিহার্যতা তুলে ধরা হয়।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে এখনও কোনো নদী নীতিমালা নেই! ২০০৯ সালে নদনদী রক্ষায় হাইকোর্ট থেকে একটি রায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাও ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়াও নদী রক্ষায় জাতীয় নদী কমিশন ও টাস্কফোর্স রয়েছে। এদের কোনো সুপারিশও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই নদীও রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই যথা শিগগির নদী রক্ষা করাটা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। আর তা না হলে দখল-দূষণে মুমূর্ষু অবস্থায় থাকা নদীগুলো তাদের অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।

তাই নদীমাতৃক বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বহুমাত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে নোঙরের পক্ষে দেশের নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। এটাকে আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নদীর অধিকার নদীকেই বুঝিয়ে দেওয়াটা জরুরী হয়ে পড়েছে। তাহলে প্রত্যেকটি নদী নিজেই বাদী হয়ে নিজেকে সুরক্ষার জন্য আদালতে রিট করতে পারবে, মামলা করতে পারবে।

এই দাবি পূরণের লক্ষ্যে নদী সংশ্লিষ্ট, সরকার ও দেশবাসীর কাছে নোঙরের চেয়ারম্যান সুমন সামনের আহ্বান, ‘’আসুন নদীর প্রতি আমরা সচেষ্ট হই, নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করে নদীর প্রতি আমরা সদয় হই। তাহলে নদী আমাদের বাঁচিয়ে রাখবে আর আমাদের দেশটি আরও সবুজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে।’

সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ভাসমান সভার জাহাজটি চাঁদপুরের উদ্দেশে ছাড়ে। সেখান থেকে নৌযানটি মুন্সগঞ্জ ভায়া হয়ে ঢাকায় ফেরে। ম্যারাথন ব্যাপি এই সেমিনারে তাদের নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন। তবে এই যাত্রায় সঙ্গী হতে না পারলেও ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহা পরিচালক (প্রশাসন) জনাব কবির বিন আনোয়ার। সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন নদী-নিরাপত্তা সংগঠনের আহ্ববায়ক সুমন শামস।

এছাড়া সেমিনারে অংশ হিউম্যান রাইটস্ এন্ড পীস ফর বাংলাদেশে এর সভাপতি এডভোকেট মনজিল মোরশেদ, ইসাবেলা ফাউন্ডেশন এর প্রধান উপদেষ্টা ও প্রকৃতি বিজ্ঞানীড. আনিসুজ্জামান খান, চ্যানেল আই এর নিউজ এডিটর মীর মাশরুর জামান, রিভারাইন পিপল এর মহাসচিব শেখ রোকন, শিক্ষক নুসরাত জাহান, বিআইডব্লিউ এর সাবেক প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, পরিবেশ বিষয়ক জেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি জনাব শমসের আলী, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন এর আহবায়ক মিহির বাশ্বাস, গ্রীন বাংলা কোয়ালিশন এর আহবায়ক শামসুল মোমেন পলাশ, নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলন এর আহ্ববায়ক আমিনুর রসুল, এডভোকেট মাহবুবুর রাহমান, রোটারি ক্লাব অব আগারগাও এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম তুহিনসহ অন্যরা।

অবশ্য নদীকে জীবন সত্তা ছাড়াও এই ভাসমান সভা থেকে মোট ৯টি দাবি উঠে এসেছে। সেগুলো হলো:

১. নদী সমূহকে-‘জীবন্ত সত্বা’ ঘোষণা করা।
২. ২৩ মে জাতীয় নৌ-নিরাত্তা দিবস ঘাষণা করা।
৩. ‘জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭’ অনুস্বাক্ষর করা।
৪. নদী ভাঙন রোধ করে নদী সিকস্তি মানুষের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
৫. আদি বুড়িগঙ্গা নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীপথ উদ্ধার করে নৌযান চালু করা।
৬. বেদখল হওয়া খাল, জলাশয় ও পুকুর উদ্ধার করা।
৭. নদীর প্লাবণভূমি চিহ্নিত করে বৃক্ষরোপণ করা।
৮. ভারতের নদী সংযোগ প্রকল্প বাতিল করা।
৯. অভিন্ন নদীর পানির সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে দেশের সকল নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা।