১৪ বছরে ৫৩৫টি বড় নৌ দুর্ঘটনা

বাংলাদেশে গত ১৪ বছরে ৫৩৫টি বড় নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর এতে ছয় হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে হিসাব জানিয়েছে নদী নিরাপত্তা বিষয়ক সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’। শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘নদী বাঁচান, দেশ বাঁচান, মানুষ বাঁচান’ বিষয়ে এক মানববন্ধনে এইসব তথ্য জানান নোঙরের সভাপতি সুমন শামস।

নোঙর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন শামস ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে অনুপম রায়ের ক্যামরায় স্বাক্ষাতকার দিচ্ছেন। ছবি : সাইফ সুমন

তিনি বলেন, ‘নোঙরের হিসাব অনুযায়ী ১৪ বছরে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫৩৫টি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর এতে ছয় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এসব দুর্ঘটনা তদন্তে ৮৬৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির কোনোটিরই ফলাফল প্রকাশ হতে দেখা যায়নি। এছাড়া নৌপথের যানবাহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেমন কোনও ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে নৌপথ তার গতিপথ হারিয়ে প্রায় এখনও ঘটছে ছোট বড় লঞ্চ দুর্ঘটনা। ১৫ জানুয়ারি দিবাগত গভীর রাতে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে একটি তেল বোঝাই কার্গোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি ট্রলার ডুবে যায়। মাটি বোঝাই ট্রলারটিতে ৩৪ জন শ্রমিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বাকি ২০ জনের ১৮ জনকেই এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

২০১১ সালে ২৩ মে ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল প্রাঙ্গণে নোঙর জাতীয় নৌ-নিরাপত্তা দিবস ঘোষণার দাবিতে সমাবেশ আয়োজন করে। ছবি : সাইফ সুমন

সুমন শামস বলেন, ‘নদীমাতৃক দেশের নদীরা আজ ভালো নেই। বিপর্যয় নেমে এসেছে আমাদের বেশিরভাগ নদীতে। আমাদের অনুসন্ধান বলছে, তেরশ’ নদীর এখন জীবিত আছে মাত্র ২৩০টি নদী। উজান দেশের উদাসীনতায় ভাটির দেশের পানি কমে যাওয়ায়, আজ আমাদের নদীগুলোর এমন অবস্থা হয়েছে। দেশের চল্লিশটির নদীতে কমে গেছে পানি, ভয়াবহ পানি সংকটের দিকে এগিয়ে চলেছে নদীমাতৃক বাংলাদেশ।’

তিনি জানান, প্রতিবছর দেশের নদীতে গড়ে জমা পড়ছে ৪ কোটি টন পলি। ফলে নৌপথ ছোট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ৪৮ বছরের নৌপথের দৈর্ঘ্য কমেছে ১৯ হাজার কিলোমিটার। খননে পরে পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তাসহ অন্যান্য নদীগুলো এখন ধুধু বালুচর। এছাড়া দেশজুড়ে অব্যাহত রয়েছে নদী দখল ও দূষণ। ফলে কৃষি, জনস্বাস্থ্য, প্রাণী ও উদ্ভিদ হুমকির মুখে পড়েছে।

মানববন্ধনে নদী ও প্রকৃতি বিসয়ক বিভিন্ন সংগঠনের একাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

আত্রাই নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে দায়ী করলেন – মমতা

বুধবার, ১০ জুলাই ২০১৯, (নোঙরনিউজ) : আত্রাই নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে দায়ী করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিধানসভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। তার দাবি, এক যুগ ফারাক্কায় ড্রেজিং না হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে।

মমতা বলেন, আত্রাই নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ। সে কারণে এপার বাংলায় শুকিয়ে যাচ্ছে নদীটি। পানিশূন্য হয়ে পড়েছে রাজ্যের দিনাজপুর জেলা। কেন্দ্রের কাছে ডিভিসি ও ফারাক্কা বাঁধ সংস্কারের দাবিও জানিয়েছেন মমতা। তার অভিযোগ, এ বিষয়ে কেন্দ্রকে বারবার জানালেও কোনো কাজ হয়নি। দুই দেশের সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

যদিও তিস্তার পানির ওপর বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার বারবার অস্বীকার করেছেন তিনি। তিস্তা থেকে পানি দেয়ার পরিস্থিতি নেই বলে দাবি করে আসছেন মমতা।

খাল-নদীর পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী সব স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রবিবার, ০৭ জুলাই ২০১৯ (নোঙরনিউজ) : নদী ও খাল-বিল ও সাগরের জোয়ারভাটার পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী সব ধরনের স্থাপনা অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সব জেলা প্রশাসককে জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা পাঠাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলমকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে জোয়ার ভাটার পানিও যেন বাধাহীনভাবে ওঠানামা করতে পারে সে বিষয়টি বাস্তবায়নেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

গত বছর সোমবার, ২৮ আগস্ট ২০১৮) তেঁজগাওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এবারের বন্যা ও বন্যা পরবর্তী পরিস্থতি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের কাছে বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তিনি।

পরিস্থিতি অবগত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, অনেক স্থানে খাল বিল দখল করে মাছের ঘের করা হয়েছে। অনেক জায়গায় ব্রিজের নিচে ইট বালু সিমেন্ট দিয়ে দেয়াল তৈরি করে পানি আটকে রেখে মাছ চাষ করা হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় খাল-নদী দখল করে নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জোয়ার ভাটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক স্থানে তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা। এ সব কারণে এবারের বন্যায় জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে।

জানা গেছে, এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ সব যারা করেছেন তারা যতোই ক্ষমতাশালী হোক তা আমলে না নিয়ে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন সব অবকাঠামো, দেয়াল বা জঞ্জাল ভেঙে ফেলতে হবে। এ বিষয়ে সব জেলা প্রশাসককে কার্যকর উদ্যোগ নিতে তিনি লিখিতভাবে নির্দেশ দিতে বলেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে। অবিলম্বে জেলা প্রশাসকদের এই নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি পাঠানোরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, ১০ জুলাই, ২০১৯ (নোঙরনিউজ) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিস্তৃতি এবং এর প্রভাব প্রশমন নিজেদের সক্রিয় উদ্যোগ সম্পর্কে আরো সচেতন হতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সচেতন থাকতে এবং নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করছি।’
তিনি আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় দু’দিনব্যাপী জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’র (জিসিএ) ঢাকা বৈঠকে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন ও অর্থায়নের যুগে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে যা সকলে সহজে কাজে লাগাতে পারি।’ ‘তথাপি আমি বলতে চাই, অভিযোজনের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেজন্য সুষ্ঠু প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অভিযোজন প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে না,’ যোগ করেন তিনি।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা সি. হেইন, গ্লোবাল কমিশন অন এডাপটেশন’র চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন এবং সম্মেলনের কো-চেয়ার এবং বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. ক্রিস্টালিনা জর্জিওভা সম্মেলনে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সামনের সারিতে থেকে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ ও কৌশল সম্পর্কে বান-কি-মুন বলেন, ‘অবশ্যই আমরা এখানে বাংলাদেশের কাছে শিখতে এসেছি। অভিযোজনের বিষয়ে শেখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশই হচ্ছে সবচেয়ে ভাল শিক্ষক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাবউদ্দিনও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্লোবাল কমিশন অব এডাপটেশন’র সহযোগিতায় আমরা জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সঠিক অভিযোজন কৌশলের পাশাপাশি সাশ্রয়ী পন্থা ও ঝুঁকি নিরসন ব্যবস্থার সুবিধা পেতে চাই।

তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানে অনুষ্ঠিতব্য ক্লাইমেট চেঞ্জ সামিটের প্রতিবেদনের সুপারিশগুলোর জন্য। ওই সম্মেলনে এলডিসিভুক্ত দেশসমূহ ও বাংলাদেশর পক্ষ থেকে আমাকে বক্তব্য দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’

বাংলাদেশে একটি ‘রিজিওনাল অ্যাডাপটেশন সেন্টার’ স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযোজন প্রক্রিয়ায় অগ্রগামী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে একটি আঞ্চলিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের দাবী রাখে। আমি বাংলাদেশে একটি আঞ্চলিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয় বিবেচনা করতে আপনাদের অনুরোধ জানাচ্ছি।’
তিনি এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়ায় বান-কি মুনকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন ঢাকা সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে বলেন,‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব অনুমিত সময়ের আগেই আমাদের প্রত্যেকের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সেজন্য, এর প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বকে বিনিয়োগে আরও বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেন,‘আমি শুধু নিজের দেশ নিয়ে ভাবি না। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে অনেক ছোট ছোট দ্বীপপুঞ্জ হারিয়ে যাবে। তখন সেখানকার মানুষেরা কোথায় যাবে, সে কথাও আমাদের ভাবতে হবে।’

শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে বলেন, তাদেরকে আমরা মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু তাদের কারণে আমাদের ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ওখানে আমাদের যত পাহাড়ি এলাকা বা জঙ্গল ছিল সেগুলো কেটে-ছেঁটে বসতি স্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে এলাকাটি অনেকটা অনিরাপদ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।’
‘এজন্য আমরা চাই দ্রুততম সময়ে তারা নিজ দেশে ফেরত যাক। তারা যত তাড়াতাড়ি নিজেদের দেশে ফিরে যাবে, ততই তা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে প্রাক-শিল্প স্তরের চেয়ে প্রায় এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উপরে পৌঁছেছে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল মানব ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর ছিল। ’
তিনি বলেন,‘জার্মান ওয়াচ’র ক্লাইমেট চেঞ্জ ভার্নাবিলিটি ইনডেক্স- ২০১৮ অনুসারে, ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৬ সময়ে বাংলাদেশ বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে ছিল ৬ষ্ঠতম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এডিবি’র জলবায়ু এবং অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিবেদনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আমাদের বার্ষিক জিডিপি ২ শতাংশ কমে যাবে। যদি বর্তমান হারে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে তাহলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে আমাদের ১৯টি উপকূলীয় জেলা স্থায়ীভাবে ডুবে যাবে।’

নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমুদ্রতল বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের বিস্তৃত এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বলছে, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৬০ লাখ জলবায়ু অভিবাসী রয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এটি বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।’

তিনি বলেন, তাঁর সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রমে গত এক দশকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে যে বিশাল উন্নতি হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাবে আজ তা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
জনগণের জন্য অভিযোজন ব্যবস্থা তৈরি করতে তাঁর সরকারের নিরলসভাবে কাজ করার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত এক দশকে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসমূহ অভিযোজনের মাধ্যমে নিরসনের জন্য বছরে প্রায় একশো কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করছি।’

এ সময় তিনি জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন এবং বাংলাদেশের নিজস্ব তহবিল থেকে জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচির জন্য ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি এই ফান্ডে বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় নেদারল্যান্ডের সহযোগিতায় প্রণীত শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনার উল্লেখ করে বলেন,‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলার জন্য আমরা বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ নামে একটি দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’
তিনি প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থপূর্ণ সহযোগিতার জন্য ২০১৫ সালে প্যারিসে বিশ্ব সম্প্রদায় একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরিতে সফল হয়েছে।

তিনি বলেন,‘অনেকের মত আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিকভাবে আমাদের এটি সমাধান করতে হবে। প্যারিস চুক্তি হচ্ছে এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর বৈশ্বিক চুক্তি।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বান কি মুন’র উদ্যোগে গঠিত পানি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরাম’র (এইচ.এল.পি.ডাব্লিউ) চূড়ান্ত রিপোর্টে আমরা সংযোজন করেছি -‘এভরি ড্রপ কাউন্টস’ অর্থাৎ ‘প্রতি ফোটা মূল্যবান।’ যেটি বিশ্ব সম্প্রদায় বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দেশের বিভিন্ন সময়ের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন এবং দুর্যোগে ক্ষয়-ক্ষতি লাঘবে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

সরকার প্রধান বলেন,‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলায় আমরা নিজস্ব কৌশল অবলম্বন করেছি। লবনাক্ততা, বন্যা ও ক্ষরা সহিষ্ণু ফসলের প্রজাতি উদ্ভাবন এবং চাষের মাধ্যমে এ বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা গড়ে তুলেছি।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান আজকে সকলের সামনে উপস্থাপনের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ৭ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষ মারা যায়। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে মারা যায় ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ। ২০০৯ সালের মে মাসে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাইক্লোন আইলার প্রভাবে ১১৯ জনের মত মানুষ মারা যায়। আর ২০১৯-এর মে মাসে বয়ে যাওয়া সাইক্লোন ফণীতে কেউ মারা না গেলেও সে সময় অন্যান্য কারণে ১০ জন প্রাণ হারায়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপকূলীয় অঞ্চলে ১৭২টি মুজিব কেল্লা (সাইক্লোন সেল্টার) নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় পথ রচনা করেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘জাতির পিতা ১৯৭২ সালে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি) গ্রহণ করেন। সিপিপি’র বর্তমানে ৪৯ হাজার ৩শ’ ৬৫ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে।’
জাতির পিতা সে সময় ৪৫ হাজার স্বে”চ্ছাসেবকের এক বাহিনী গড়ে তুলতে সক্ষম হন বলেও তিনি জানান।

তাঁর সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশে কমে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ৩৭৮টি মুজিব কেল্লা নির্মাণ করছে। এছাড়া, দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ৩ হাজার ৮৬৮টি বহুমুখী সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ১ হাজার ৬৫০টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হবে।’

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের আষাঢ় মাসে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আগামী ৫ বছরে দেশের ২২ থেকে ২৪ ভাগ অঞ্চল গাছপালায় আচ্ছাদিত হবে।’

ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ২ লাখ হেক্টর উপকূলীয়-বনায়ন সৃষ্টি করে সবুজ বেষ্টনীর মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূল অঞ্চলকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে ৬ লাখ ১ হাজার ৭শ’ হেক্টর এলাকার সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বনের ব্যবস্থাপনা করছে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারর বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে এক্ষেত্রে ব্যাপক গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।