করোনা প্রতিরোধে নোঙর’র জীবাণুনাশক স্প্রে কর্মসুচি অনুষ্ঠিত।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বুড়িগঙ্গা এবং আদী বুড়িগঙ্গার ধারের কামরাঙ্গীরচরের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, খেয়াঘাট এবং বুড়িগঙ্গার খেয়া নৌকায় জীবাণুনাশক স্প্রে, মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাপস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ কর্মসুচির মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান পালন করছে নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ সেবামূলক গণসচেতনতামূলক প্রচারণায় নোঙর : ছবি : এফ এইচ সবুজ

আজ সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০ সকাল ১০:৩০ মিনিটে কামরাঙ্গীরচ লোহারপুল থেকে মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচার অভিযান শুরু হয়।দুপুর ২:২০ মিনিট পর্যন্ত আদি বুড়িগঙ্গা বেরিবাধ, কুরারঘাট, ঠোডাঘাট হয়ে মাদবর বাজার ঘাট পর্যন্ত এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক এ প্রচার অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ সেবামূলক গণসচেতনতামূলক প্রচারণায় নোঙর : ছবি : আমিনুল হক চৌধুরী

কামরাঙ্গীরচর লোহার পুল থেকে শুরু করে বুড়িগঙ্গার ঠোডা খেয়া ঘাট হয়ে মাদবর বাজার পর্যন্ত তিনটি খেয়াঘাটের সাধারণ যাত্রীদের করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা মনে করিয়ে দিয়ে সকল জনগণকে আরো সচেতন হবার আহবান জানানো হয়। করোনা প্রতিরোধে সমগ্র দেশবাসীকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকার আহবান জানান নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর সভাপতি সুমন শামস।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ সেবামূলক গণসচেতনতামূলক প্রচারণায় নোঙর : ছবি : এফ এইচ সবুজ

তিনি বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৭০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে এবং ১৩ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। একই সময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশীর মৃত্যু ঘটেছে এবং নতুন করে ১২ প্রবাসী শনাক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১২ জন নাগরিক মৃত্যু ঘটেছে, ১২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং নতুন করে আরো ৩৫ জন সনাক্ত হয়েছে যা আমাদেকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশ এর ৫৭নং ওর্য়াড কাউন্সিলর হাজী মোঃ সাইদুল মাদবর এর সহযোগিতায় নোঙর আয়োজিত এ অভিযানের পাশে ছিলেন জনাব সুজিতরায় নন্দী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।জনাব আখলাকুর রহমান মাইনু, নির্বাহী পরিচালক, চাইল্ড এন্ড মাদার কেয়ার।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ সেবামূলক গণসচেতনতামূলক প্রচারণায় নোঙর : ছবি : এফ এইচ সবুজ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন নোঙর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীর মোকাদ্দেস আলী, আমিনুল হক চৌধুরী, সৈয়দ শাহনেওয়াজ শাহীন, ‘নোঙর- ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক জনাব এফ এইচ সবুজ, মহানগর দক্ষিণ’র সম্মানিত সদস্য, চিত্রশিল্পী সবুর খান, মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ বাবুল, মোঃ রাজিব।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ সেবামূলক গণসচেতনতামূলক প্রচারণায় নোঙর : ছবি : এফ এইচ সবুজ

তাই করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সরকার ঘষিত সকল নির্দেশনা মেনে নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করার অনুরোধ করেন নোঙর সভাপতি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ সেবামূলক গণসচেতনতামূলক প্রচারণায় নোঙর : ছবি : আমিনুল হক

https://nongornews.com/2020/04/06/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a7%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%99%e0%a6%b0%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80/

অমর একুশে শহীদ বেদিতে নোঙর পরিবারের শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন

অমর একুশ উপলক্ষ্যে গতকাল ৮ ফাল্গুন ১৪২৬, শুক্রবার, (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০) রাত ১২:৪৫ মিনিট প্রথম প্রহরে “ভাষা শহীদ স্মরণে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস- ২০২০” উদযাপন উপলক্ষে নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’ পরিবার প্রতি বছরের মতো এবার ও প্রভাতফেরীর আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি রাজু চত্বর থেকে প্রভাতফেরির পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করে নোঙর বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন শামস, কেন্দ্রীয় সদস্য আমিনুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য রুহুল আমিন, কেন্দ্রীয় সদস্য এফ এইচ সবুজ, ঢাকা মহানগর এর আহবায়ক আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুস সালাম সময়, শাহান শাহ্, কেন্দ্রীয় সদস্য দর্পণ জামিল, কেন্দ্রীয় সদস্য সরকার সজীব, কেন্দ্রীয় সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন জনি, কেন্দ্রীয় সদস্য এস. কে. ফরহাদ, জান্নাত তোর্শা, বাবু, আপন, ইফাত জোয়াইরিয়া ও মোনালিসা প্রমুখ।

এ ছাড়াও পরিবারের বিভিন্ন জেলা শাখা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতা কর্মী একুশের পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

নোঙর এবার ‘২৩ মে, জাতীয় নৌ-নিরাপত্তা দিবস ঘোষণা করো’ শ্লোগানের ব্যানার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রঙ্গণে পুস্পস্তবক অর্পণ করে।

একই সাথে ৮ ফাল্গুণ ১৪২৬, শুক্রবার, (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০) সকালে নোঙর- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির প্রভাতফেরী অনুষ্ঠিত হয়। শহরের শহীদ মিনার প্রঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন নোঙর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি শামীম আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক খালেদা মুন্নি, অর্থ সম্পাদক শিপন কর্মকার, নিবার্হী সদস্য মিজানুর রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফেবিন রহমান, শান্তা ইসলাম, কামাল উদ্দিনসহ জেলা শাখার সকল সম্পাদক ও সদস্যবৃন্দ।

অমর একুশে শহীদ বেদিতে নোঙর পরিবারের শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন

‘নদী অধিকার মঞ্চ’র দক্ষিণ এশিয়া কমিটির দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন ২০১৯ নেপালে অনুষ্ঠিত

ফারাক্কা বাধের কারণে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই বাংলাদেশের পদ্মা নদী এখন পানিশূন্য হয়ে যায়। মরা নদীর বালুর স্তরে স্তরে আটকে আছে মাঝিদের নৌকাগুলো।কারণ ফারাকা এবং তিস্তা নদীর বুকে ভারতের বাধ নির্মাণ।

‘নদী অধিকার মঞ্চ’ দক্ষিণ এশিয়ার সমন্বয়ক জনাব ব্রিজরাজ কুশওয়াহা

ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে উজানে ভারতের অব্যাহত পানি প্রত্যাহারের পরিণতিতে এক সময়ের প্রমত্তা পদ্মার এই করুণ দশা। অথচ সেই ফারাক্কা বাঁধের কারণে প্রতিবছর বন্যায় ডুবছে ভারতের বিস্তির্ণ অঞ্চল। সে কারণে নেপালের গান্ডাক নদীর দু’পাশেও দেখা দিচ্ছে বন্যা। ফলে ফারাক্কা বাঁধের কারণে বিরুপ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল।

এ অবস্থায় পানিবন্টন চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন তিন দেশেরই নদী বিশেষজ্ঞরা। ক্ষতিগ্রস্থ এই তিনটি দেশের নদী কর্মীরা গত তিন বছর আগেই গঠন করেছেন ‘নদী অধিকার মঞ্চ’।

সংগঠনের দক্ষিণ এশিয়ার সমন্বয়ক জনাব ব্রিজরাজ কুশওয়াহা’র আহবানে নেপালের ডন্ডাক নদীর তীরে গত ২৬-২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী দক্ষিণ এশিয়া কমিটির দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনের উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পানিকে কেন্দ্রীক ত্রিদেশীয় সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিতে নেপাল-বাংলাদেশ- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উত্তর প্রদেশের পানি অধিকার কর্মী ও প্রকৌশলী ও নদী কর্মীরা অভিন্ন নদীর পাপশে থাকার কথা বলেছেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেপালের পানি সম্পদ ও জ্বালানী মন্ত্রী বর্শমন পুন। ডি এন গুপ্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান জেলা কর্মকর্তা, পুলিশ প্রধান, তদন্ত, মন্ত্রী, পৌরসভার প্রধান রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিবাদিরা।

বাংলাদেশের পক্ষ বক্তব্য রাখেন নদী নিরাপত্তার সাম্জিক সংগঠন ‘নোঙর বংলাদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন শামস বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারতও ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। নেপালের হিমালয় থেকে গন্ডাক নদীর মাধ্যমে পানি ভারতের গঙ্গায় আসে। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধের কারণে ভরা মৌসুমে গন্ডাক নদী থেকে পানি আসতে পারছে না। ফলে ভারত ও নেপালে দেখা দিচ্ছে বন্যা। এর বিপরীতে পানিশূন্যতায় ভুগছে পদ্মা। ফলে এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রকৃতিতে চরম বিরুপ প্রভাব পড়ছে। ওদিকে বন্যার কারণে ভারত ও নেপালে বহু সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। বন্যার সময় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবে মারাও যাচ্ছেন অনেক মানুষ।

তিন দেশের সমাবেশে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের কাছ থেকে নদী কেন্দ্রীক যে সমস্যার কথা তিন দেশের সরকারকেই অবহিত করবে নদী অধিকার মঞ্চের ত্রিদেশীয় নদী কর্মীরা। ‘১৯৯৭ সালের আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহে নৌ-চলাচল বহির্ভুত ব্যবহার সংক্রান্ত আইন’ বাস্তবায়নে তারা তিন দেশের সরকারকেই তাগাদা দেবেন। বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধ তোলার জন্য তারা দিল্লির কাছে দাবি জানাবেন।

শুধু ফারাক্কা নয়, কানপুরে গঙ্গা ব্যারাজ ও হরিদ্বারে গঙ্গার পানি প্রত্যাহারে নির্মিত কৃত্রিম খালসহ অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করেছে ভারত। ফারাক্কার উজানে উত্তর প্রদেশের কানপুরে গঙ্গার ওপর আরও একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর প্রদেশ ও বিহারে সেচের জন্য প্রায় ৪০০ পয়েন্ট থেকে পানি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব পয়েন্ট থেকে হাজার হাজার কিউসেক পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ কমে গেছে।

ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই পদ্মা পানিশূন্য হয়ে যাচ্ছে। পদ্মার এমন অবস্থার কারণে চর ও বরেন্দ্র এলাকায় বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর গড়ে ১১০ ফুট নিচে অবস্থান করছে। দিনে দিনে তা আরও নিচের দিকেই যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে হাজার হাজার গভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর শুকনো মৌসুমের শুরুতেই পদ্মাজুড়ে চর পড়ে। সেই সঙ্গে পদ্মার শাখা-প্রশাখাসহ অন্তত ৩৬টি নদী কার্যত মরা খালে রূপ নিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই এ অবস্থা চলছে। এ অবস্থার জন্য তিনি ফারাক্কা বাঁধকেই দায়ী করেন। সেই সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পদ্মায় পানির হিস্যাও দাবি করেন তিনি।

সম্মেলনের সঞ্চালক জনাব শৈলেন শর্মা বলেন, নেপাল ও ভারতের মধ্যে গন্ডাক চুক্তিতে যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল সেই চুক্তির মাধ্যমে নেপাল সরকার একটি ১৫ মেগাওয়াট হাইড্রো পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ করা হয়ে ছিলো। ভারত সরকার ও তাদের কৃষকদের সেচের জন্য পানি পেয়েছিল।

কিন্তু এই চুক্তিটি কেবল লোক দেখানো চুক্তি পরে নদীর পানির অসম বন্টনের কারনে বর্ষায় প্রতি বছর নেপালের বিভিন্ন অঞ্চল বন্যায় ভেসে যায়। পাশাপাশি নেপালের গন্ডাক নদীর পানির সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে বর্তমানে জলবিদ্যুৎ উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে। গন্ডক নদীর উপর নির্মিত কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উভয় পক্ষই হতাশাগ্রস্থ বলে মনে হয়।

সমঝোতা চুক্তিটি তিনটি মূল উদ্দেশ্য ১. সেচ ২. বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ও ৩. জলবিদ্যুৎকে কেন্দ্র করে। তবে নদীর উপর নদীর স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব উপেক্ষা করে এটি জনগণের কল্যাণকে উপেক্ষা করেছে। উভয় দেশের জন্য সমান স্বার্থের কথা বলা হয়েছিল, তবে চুক্তির শব্দগুলি কেবল কাগজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

যদিও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতীয় পক্ষ নেপালি জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করতে শুরু করেছিল এবং স্থানীয়রা নেপালি সরকারের কাছে আবেদন করেছিল, কিন্তু নেপালি সরকারও এ বলেছিল যে তারা গন্ডাক কমান্ড এলাকায় কাজ করতে পারে না।

১৪ বছরে ৫৩৫টি বড় নৌ দুর্ঘটনা

বাংলাদেশে গত ১৪ বছরে ৫৩৫টি বড় নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর এতে ছয় হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে হিসাব জানিয়েছে নদী নিরাপত্তা বিষয়ক সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’। শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘নদী বাঁচান, দেশ বাঁচান, মানুষ বাঁচান’ বিষয়ে এক মানববন্ধনে এইসব তথ্য জানান নোঙরের সভাপতি সুমন শামস।

নোঙর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন শামস ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে অনুপম রায়ের ক্যামরায় স্বাক্ষাতকার দিচ্ছেন। ছবি : সাইফ সুমন

তিনি বলেন, ‘নোঙরের হিসাব অনুযায়ী ১৪ বছরে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫৩৫টি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর এতে ছয় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এসব দুর্ঘটনা তদন্তে ৮৬৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির কোনোটিরই ফলাফল প্রকাশ হতে দেখা যায়নি। এছাড়া নৌপথের যানবাহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেমন কোনও ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে নৌপথ তার গতিপথ হারিয়ে প্রায় এখনও ঘটছে ছোট বড় লঞ্চ দুর্ঘটনা। ১৫ জানুয়ারি দিবাগত গভীর রাতে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে একটি তেল বোঝাই কার্গোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি ট্রলার ডুবে যায়। মাটি বোঝাই ট্রলারটিতে ৩৪ জন শ্রমিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বাকি ২০ জনের ১৮ জনকেই এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

২০১১ সালে ২৩ মে ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল প্রাঙ্গণে নোঙর জাতীয় নৌ-নিরাপত্তা দিবস ঘোষণার দাবিতে সমাবেশ আয়োজন করে। ছবি : সাইফ সুমন

সুমন শামস বলেন, ‘নদীমাতৃক দেশের নদীরা আজ ভালো নেই। বিপর্যয় নেমে এসেছে আমাদের বেশিরভাগ নদীতে। আমাদের অনুসন্ধান বলছে, তেরশ’ নদীর এখন জীবিত আছে মাত্র ২৩০টি নদী। উজান দেশের উদাসীনতায় ভাটির দেশের পানি কমে যাওয়ায়, আজ আমাদের নদীগুলোর এমন অবস্থা হয়েছে। দেশের চল্লিশটির নদীতে কমে গেছে পানি, ভয়াবহ পানি সংকটের দিকে এগিয়ে চলেছে নদীমাতৃক বাংলাদেশ।’

তিনি জানান, প্রতিবছর দেশের নদীতে গড়ে জমা পড়ছে ৪ কোটি টন পলি। ফলে নৌপথ ছোট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ৪৮ বছরের নৌপথের দৈর্ঘ্য কমেছে ১৯ হাজার কিলোমিটার। খননে পরে পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তাসহ অন্যান্য নদীগুলো এখন ধুধু বালুচর। এছাড়া দেশজুড়ে অব্যাহত রয়েছে নদী দখল ও দূষণ। ফলে কৃষি, জনস্বাস্থ্য, প্রাণী ও উদ্ভিদ হুমকির মুখে পড়েছে।

মানববন্ধনে নদী ও প্রকৃতি বিসয়ক বিভিন্ন সংগঠনের একাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।